রাজশাহীর নারিকেল বাড়িয়ায় মামার বাঁশের আঘাতে ভাগ্নে আহত ঘটনা পুলিশী তদন্তে ধীরগতি?
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন নারিকেল বাড়িয়া কৃষি ব্যাংক মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলার স্বীকার হয়েছে তুহিন শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান আহত তুহিনের স্ত্রী কাজল বেগম। আহত তুহিন শেখ রামেক হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও জানান কাজল বেগম। ঐ ঘটনায় আহতের স্ত্রী কাজল বেগম বাদী হয়ে গত ০১-১০-২৪ ইং তারিখে চন্দ্রিমা থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন, নারিকেল বাড়িয়া এলাকার মৃত ইস্রাফিল মন্ডল (এছের)’র ছেলে শহিদুল শেখ (৪৫), ওবায়দুল শেখ (৬৫) ও রহমান শেখ (৩৫) এবং ওবায়দুল শেখের ছেলে হাসান (৩৫)।
আহত তুহিনের পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্য ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নারিকেল বাড়িয়া এলাকায় ০.২০৯৭ একর পরিমাণ একটি জমি আমমোক্তারনামা ক্ষমতাবলে বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছিলেন তুহিন শেখ। সে মোতাবেক তিনি তালাইমারী এলাকার মৃত জসিম উদ্দীনের ছেলে সফর আলীর কাছে উক্ত জমিটি বিক্রি করেন। মেহেরচন্ডি মৌজার অন্তর্গত বিক্রিত জমিটির দাগ নং-২০৯৯, জেএল নং-১৩৭, আরএস খতিয়ান-১৯৩৭০, আরএস দাগ নং-১০৫০, রকম: বাড়ি। বিক্রিত জমিটি ক্রেতা সফর আলীকে বুঝিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে গত ২৯-০৯-২৪ ইং তারিখ বেলা ১২:৩০ মিনিটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য দলিল দস্তাবেজ সঙ্গে নিয়ে বিক্রিত জমির কাছে পৌঁছান তুহিন। ঘটনাস্থলে পৌছানোর পর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামীগণ উস্কানিমূলকভাবে তুহিনকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজ ও নোংরা ভাষা ব্যবহার করতে নিষেধ করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তুহিন শেখের উপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এতে করে আহত তুহিন মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন।
আহত তুহিনের আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে আশেপাশের কয়েকজন স্থানীয়ব্যক্তি এগিয়ে এলে আসামীরা হুকমি ধামকি ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান আহত তুহিনের স্ত্রী কাজল বেগম। অবশেষে আহত তুহিনকে স্থানীয়রা ভ্যানে করে রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেন আহত তুহিন। অভিুযুক্ত আসামীরা থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেবার জন্য প্রতিনিয়তই নানাপস্থায় বল প্রয়োগ করছে বলেও জানান তুহিন ও তার পরিবার। আহত তুহিন শেখ আসামীদের ভাগনে হয় বলে জানানা স্ত্রী কাজল বেগম। থানাতে অভিযোগ দেয়ার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও আজ অবদি তদন্তপূর্বক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি থানা পুলিশ বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ করে বলেন, প্রশাসন অভিযুক্তদের পক্ষ নিচ্ছে বলেই আমাদের ধারণা। যার কারণে, আজ অবদি অপরাধের তদন্ত করার জন্য থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মতিয়ার হোসেন জানান, এখনো তদন্ত করতে যায়নি। তারা তো (বাদীপক্ষ) থানায় আর আসেনি। অভিযোগ করে থানায় একটু খোজখবর নিতে হয়। কোন অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলো সেটি একবার খোঁজ নিতে বলেন। ঠিক আছে বিষয়টি আমি দেখতেছি বলেও জানান ওসি।
