৬ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

এশিয়ার ক্ষুদ্রতম মা মাসুরার দোকানের প্রথম ক্রেতা হলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৪, ৯:১৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
এশিয়ার ক্ষুদ্রতম মা মাসুরার দোকানের প্রথম ক্রেতা হলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : মাসুরা বেগমের উচ্চতা মাত্র ৩৮ ইঞ্চি হওয়া সত্ত্বেও ‘মা’ হয়েছেন পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বজরপুর গ্রামের মাসুরা বেগম। আর তার জীবন গল্প নিয়ে- এশিয়ার সবচেয়ে ক্ষুদ্রাতম মা পবার মাসুরা, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই! মাসুরার সেই করুণ জীবনগাথা প্রতিবেদনটি পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসে। এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর নজরে আসলে, মাসুরার কাছ থেকে নিজের একটি বাড়ি ও দোকান’র স্বপ্নের কথা জানতে পেরেন। এরই ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পেয়েছেন মুজিববর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তার গ্রামেই নির্মাণ একটি সুন্দর পাকা বাড়ি। এছাড়াও রাজশাহী এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মাসুরার দোকানের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নিজ আশ্রায়ন প্রকল্পে একটি দৃষ্টিনন্দন দোকান করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী এসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ। সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০ টায় পারিলা ইউনিয়নের বজরপুর আশ্রায়ন প্রকল্পে ফলক উন্মোচন ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে এই দোকান ঘরের উদ্বোধন করেছেন তিনি। পবা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাসুরা দোকান উদ্বোধনের কথা জানতে পেরে- আবেগ আপ্লুত হয়ে রাত জেগে মনের আনন্দে বিভিন্ন রংয়ের বেলুন ও রঙিন কাগজ-কাপড় দিয়ে নিজ হাতে চমৎকার দৃষ্টিনন্দন সাজে সাজিয়েছে স্বপ্নের দোকানটি। সাথে ছিল তার স্বামী মনিরুল ও একমাত্র কন্যা শিশু মরিয়ম। মাসুরার দোকানের প্রথম ক্রেতা ছিলেন জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ। তিনি প্রথম ক্রেতা হিসেবে বেশকিছু চকলেটের বক্স ক্রয় করেন এবং আশ্রায়ন প্রকল্পের শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন।
এসময় জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, মাসুরা এশিয়ার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মা। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমার নজরে আসে। এরপর আমি তাকে নিজ কার্যালয়ে দাওয়াত দেয়। সেখানে মাসুরার সাথে কথা বলে বাড়ি ও দোকানের স্বপ্নের কথা জানতে পারি। দ্রুততম সময়ে মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুজিববর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তার গ্রামেই নির্মাণ একটি সুন্দর পাকা বাড়ি দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজশাহী এসোসিয়েশন একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে মাসুরার মতো অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহযোগিতা পেয়েছেন। তাই মাসুরার দোকানের স্বপ্ন পূরণে রাজশাহী এসোসিয়েশন এগিয়ে এসেছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও রাজশাহী এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার সরকার, রাজশাহী এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রামাণিক, রাজশাহী এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য আকবারুল হাসান মিল্লাত। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত, সহকারী কমিশনার ভূমি অভিজিত সহকারী, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দীন-আল-ওয়াদুদ, পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির, পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোর্শেদ, বেনেতী ব্যবস্থায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী।

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন