রাজশাহীর উপশহর মোড়ের রাস্তার গাড়িটি নিয়ে নানাপ্রশ্ন আর কৌতুহল
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর উপশহর নতুন মোড় এলাকার রাস্তার একপাশে প্রায় মাসখানেক ধরে পড়ে আছে নীল রংয়ের একটি প্রাইভেট কার। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা এই গাড়িটি নিয়ে কৌতুহল ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। কার গাড়ি, কেনো এতোদিন ধরে এখানে রাখা হয়েছে, বিশেষ কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা, কি আছে এই গাড়ির ভেতর। এমন অনেক প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মাঝে।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নীল রংয়ের একটি প্রাইভেট কার রাস্তার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে দাড়িয়ে আছে। গাড়ির সামনের অংশের দরজার গ্লাস দুটো স্বচ্ছ হলেও পেছনের দিকের গ্লাসগুলো কালো রংয়ের। যদিওবা কালো রংয়ের গ্লাস গাড়িতে ব্যবহার করাতে বিধি নিষেধ আছে। সন্দেহজনক প্রাইভেট কারটি সম্পর্কে ঐ এলাকার স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলেও প্রকৃত মালিকের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। কেউই বলতে পারছেন না ঐ গাড়িটির মালিক কে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুজন ব্যবসায়ী (মুদি ও ডিমের দোকান) বলেন, মাসখানেকের বেশি সময় ধরে গাড়িটি এখানে আছে। কে বা কারা রেখেছে সেটি আমরা জানিনা। তবে বৃষ্টিরদিন রাতে গাড়িটি এখানে রাখা হয়েছিল। অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, সপ্তাহ তিনেক আগে শার্ট-প্যান্ট পরা একজন যুবক এসে গাড়ির দড়জা খুলে গাড়ির ভেতর স্প্রে করে তাৎক্ষণিক স্থান ত্যাগ করেন। এরপর থেকে আর কেই আসেনি। গাড়িটি যে স্থানে রাখা আছে তার আশেপাশের বাড়ি ও ভবনগুলোতে জিজ্ঞাসা করলে তারাও বলতে পারেনি গাড়িটির মালিক কে। গাড়িটির সামনের দরজার জানালা দিয়ে ভেতরে দেখলে চোখে পড়ে সিটের উপরে দুটো রুম স্প্রে রাখা আছে। গাড়ির স্টিয়ারিং এর পাশে ছোট্ট একটি বোতলের ভেতর রাখা আছে যতসামান্য পেট্রোল জাতীয় তরল পদার্থ। গাড়ির ভেতর আছে একটি কসটেপ। এছাড়াও আছে দুই সিটের মধ্যস্থানে আকাশী ও সাদা রংয়ের ছোট দুটো ব্যাগ। নীল রংয়ের কিয়া ব্রান্ডের ঢাকা ‘মেট্রো-খ ১২-২৮৫৯’ প্রাইভেট কারটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে জন্ম নিয়েছে নানাপ্রশ্ন, সন্দেহ আর কৌতুহল। গাড়িটি যদি বাইরের অচেনা কোন ব্যক্তির হয় তাহলে তো সেটি এতো সময় ধরে এখানে রাখবে না। আর যদি স্থানীয় কোন ব্যক্তির গাড়ি হয়, তাহলে তো সেটি সুরক্ষিতস্থানে রাখার কথা। আর যদি, বসবাসকারি কোন ব্যক্তির আত্মীয়ের গাড়ি হয়, তাহলে সেটির নিরাপত্তার জন্য আশেপাশের ব্যবসায়িদেরকে একটু খেয়াল রাখার কথা তিনি জানিয়ে রাখতে পারেন। এমন নানা ধরনের প্রশ্নে জর্জরিত স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, না জানানো হয়নি।
