মঙ্গলবার

৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, আড়াই মাস পর মরদেহ শনাক্ত রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী

বাবার চিন্তা বাস্তবায়ন করে এদেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেব : প্রধানমন্ত্রী

Paris
Update : রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেছেন, সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। যে কোনো একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সংগঠনটা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী। যদি সংগঠন শক্তিশালী হয় আর দেশের মানুষের গণসমর্থন পাওয়া যায় যতই ষড়যন্ত্র হোক; মৃত্যু যে কোনো সময় আসতে পারে। তার জন্য আমি কোনোদিনই ভীত না। কখনো ভয় পাইনি, পাবো না। কিন্তু যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আঁশ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমার বাবার যে চিন্তা-চেতনার বাস্তবায়ন করে এদেশের মানুষেকে একটা উন্নত জীবন দেব এটিই আমাদের লক্ষ্য। রোববার (২৩ জুন) বিকেলে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমার বাবা প্রায় রবীন্দ্রনাথের এই কবিতাটা তিনি সবসময় উচ্চারণ করতেন; উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ভয় নাই নিঃশ্বেসে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’ ‘আমি এখন মাঝে মাঝে ভাবি, তিনি যে এই কথাটা উচ্চারণ করতেন কত সত্য কথা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে কিন্তু তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। আর আমি বড় সন্তান হিসেবে পাশে থেকে জেনেছি তার স্বপ্ন, কীভাবে তিনি বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান? প্রায়ই আমাদের কাছে গল্প করতেন। আর তাই সব স্নেহ মায়া মমতা ত্যাগ করে ফিরে এসেছিলাম এমন একটা দেশে; যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন আমার বাবা। সেই আইন বন্ধ করে দিয়ে সমস্ত অপরাধীদের মুক্ত করে রাজনীতি করার সুযোগ দেয় জিয়াউর রহমান। ১৫ আগস্টের আত্মস্বীকৃত খুনি; তাদেরকে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স দিয়ে বিচারের হাত থেকে মুক্ত করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ এবং বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করা হয়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সেই একটি জায়গায় ফিরে আসি। শুধু একটা চিন্তা থেকেই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই হবে।’ মানুষকে সুখি সমৃদ্ধ জীবন উপহার দিতে হবে বলে দাবি করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। ২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ঠিক সেই সময় আমরা পেলাম সুখবর। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার সুযোগ পেয়েছে। ২০২৬ সালে আমাদের যাত্রা শুরু হবে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে। আমরা নিয়েছি তার প্রস্তুতি। পাশাপাশি ২০০৮-এর নির্বাচনি ইশতেহারে যে ঘোষণা দিয়েছিলাম দিন বদলের সনদ; আজ প্রকৃতভাবেই আমরা দিন বদল করেছি। আজকে আমাদের লক্ষ্য ২০২১ থেকে ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে করবো আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ। এই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আর ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যানও আমরা তৈরি করেছি।’ ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে’ দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। এদেশের মানুষকে ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা অবশ্যই দেবে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট সোনার বাংলা ইনশাআল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।’ আওয়ামী লীগের যে সব নেতা জীবন দিয়ে গেছেন তাদের সবার প্রতিও শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সেই মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আজকে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি বলে মনে করেন তিনি। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার একটাই আবেদন থাকবে আমাদের সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছে, সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। যে কোনো একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সংগঠনটা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী। যদি সংগঠন শক্তিশালী হয় আর দেশের মানুষের গণসমর্থন পাওয়া যায় যতই ষড়যন্ত্র হোক হ্যাঁ মৃত্যু, যে কোনো সময় মৃত্যু আসতে পারে তার জন্য আমি কোনোদিনই ভীত না। কখনো ভয় পাইনি পাবো না। কিন্তু যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আঁশ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমার বাবার যে চিন্তা চেতনা বাস্তবায়ন করে এদেশের মানুষেকে একটা উন্নত জীবন দেব এটিই আমাদের লক্ষ্য।’ ‘প্রত্যেক নেতাকর্মীকে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলবো, আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কত কষ্ট স্বীকার করেছে। বারবার আঘাত এসেছে। পরিবারগুলো কষ্ট করেছে। কিন্তু এই সংগঠন ধরে রেখেছে। কাজেই যেমন সংগঠন করতে হবে সেইভাবে জনগণের আস্থা বিশ্বাস যেটা আমাদের মূল শক্তি সেই আস্থা বিশ্বাসটা অর্জন করতে হবে। সেই আস্থা বিশ্বাসটা করতে পেরেছি বলেই বারবার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। বারবার ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৯ থেকে এই ২০২৪ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। আর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই আজকে আর্থ-সামাজিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ আজকে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বে আজকে মাথা উচুঁ করে চলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই এটাকে ধরে রেখেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সুকান্তের ভাষায় বলে যেতে চাই, যতক্ষণ দেশে আছে প্রাণ প্রাণপণে দুহাতে সরাব জঞ্জাল। এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।’ ২০৪১, ২১০০- অনেক বয়স হয়েছে। ততদিন হয়ত বেঁচে থাকব না। কিন্তু আজকে যারা নবীন আজকের যে জনগণ যারা আমার স্মার্ট বাংলাদেশের মূল সৈনিক হবে। আমরা স্মার্ট জনগোষ্ঠী গড়ে তুলব স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তুলে এই বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্লাটিনাম জুবিলিতে এইটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। সেই প্রতিজ্ঞায় আপনারা আছেন হাত তুলে বলেন। এ সময় উপস্থিত দলের নেতাকর্মীরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা শপথে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এরপর সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আয়োজনে বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর সাংষ্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। গৌরবময় পথচলার ৭৫ বছর অবিবাহিত করছে আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইতিহাস ঐতিহ্য সংগ্রাম অর্জনের পথচলায় দলটি এবার ৭৫ বছর পূর্ণ করে আজ পা দিল ৭৬ বছরে। গৌরব ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ৭৫ বছরের পথচলায় নানামুখী চড়াই-উৎরাই পেরোনো আওয়ামী লীগ দীর্ঘ পথচলায় কখনো থেমে যায়নি। অবিরাম পথচলায় বারবার দিয়েছে অদম্যতার প্রমাণ। ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ প্রাঙ্গণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী মুসলিম লীগের প্রগতিশীল কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধীদলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি সময় ৪৩ বছর ধরে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে ২০০৯ সাল থেকে টানা চতুর্থ দফা এবং পঞ্চমবার ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ।-এফএনএস


আরোও অন্যান্য খবর
Paris