শনিবার

১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা সুইট বৃদ্ধ খুন : নওগাঁয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আসামিপক্ষের বাড়িতে ভয়াবহ হামলা-আগুন হামলা থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প লালপুরে প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার ও নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল ভারী বর্ষণে রুয়েটের আবাসিক হলে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : এমপি মিলন রাজশাহীতে পথচারীদের মাঝে ছাতা বিতরণ অমুসলিম নাগরিকের নিরাপত্তা ইসলামের নির্দেশনা বিশ্বকাপ কি ‘ফিক্সড’, কেন মাত্র ৮টি দেশই বারবার ট্রফি জেতে? সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট পেশ

তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখলো দেশবাসী

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪

গত ২৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখলো দেশবাসী, যা ১৯৭২ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) যশোরে ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এরআগে, ১৯৯৫ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। আর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৭২ সালের ১৮ মে, ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ১৯৬৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ১৯৬০ সালে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে এ জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছর এখন পর্যন্ত এটিই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস। এর আগে ১৯৮৫ সালে ৪৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর চুয়াডাঙ্গায় আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপনের পর ২০১৪ সালে ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এছাড়া গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০২৩ বছরের ১৯ ও ২০ এপ্রিল ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া পর্যায়ক্রমে ২০১৫ সালের ২২ মে ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৬ সালের ১১ ও ২২ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৮ সালের ১৮ জুন ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০২২ সালের ২৪ ও ২৫ এপ্রিল মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে টানা ১৮ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে চলছে। কখনও তীব্র আবার কখনও খুব তীব্র আকার ধারণ করছে জেলার তাপপ্রবাহ। এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। দিন এবং রাতের তাপমাত্রায় খুব বেশি পার্থক্য নেই। দিনের আলো ফোটার পর থেকেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিবেশ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রকট হচ্ছে রোদের উত্তাপ। আবার সন্ধ্যার পর ভ্যাপসা গরমে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। তীব্র হচ্ছে গরমের অনুভূতি। বৃষ্টির পানির জন্য হাহাকার করছে মানুষ। সকাল সকাল শ্রমজীবী মানুষেরা কাজের সন্ধানে বেরিয়েও ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। একটু কাজ করার পরই কাহিল হয়ে পড়ছেন। বিশ্রাম নিচ্ছেন গাছের নিচে। টানা তাপদাহে এ জেলার মানুষ ও প্রাণিকুল ওষ্ঠাগত। নাকাল এ অঞ্চলের জনজীবন। জেলা শহরের বড় বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী শিমুল লস্কর বলেন, ফুটপাতে বসে ব্যবসা করায় দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তা থেকে যেন আগুনের আঁচ উঠছে। শরীরের চামড়ায় ফোসকা পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঘরেও তো বসে থাকা যাচ্ছে না। কাজের জন্য সড়কের পাশে বসতেই হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানচালক আব্দুর রহিম বলেন, জেলা শহরে মানুষজন তীব্র গরমে ঘর থেকে বেরই হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন তাও সন্ধ্যার পর। দিনে রোদের তাপ আর রাতে ভ্যাপসা গরমে কাজকর্ম করা যাচ্ছে না। কঠিন হয়ে পড়ছে সবকিছু। আবহাওয়ার সুখবর দিয়ে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, বুধবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আগামী ৫ মে এর পর চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। চলতি বছর টানা ৩১ দিন ধরে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা ৭৬ বছরের মধ্যে রেকর্ড। তবে আগামী সপ্তাহে বৃষ্টিপাতে আভাস দেখছে আবহাওয়া অফিস।-এফএনএস


আরোও অন্যান্য খবর
Paris