২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

শিবগঞ্জে বজ্রপাত ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৭৪ পরিবার ১ বছরেও অনুদান পায়নি

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৩, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
শিবগঞ্জে বজ্রপাত ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৭৪ পরিবার ১ বছরেও অনুদান পায়নি
বিজ্ঞাপন

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বজ্রপাত ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৭৪টি পরিবার টানা এক বছরেও কোন আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় জীবনযাপন করছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর বেশীর ভাগই গরীব ও অসহায় হওয়ায় তারা অনেকেই এখনো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ক্ষতিগ্রস্থ পবিারগুলোর মধ্যে প্রায় ১০-১২ নদীভাঙন কবলিত পাঁকা ইউনিয়নের বাসিন্দা। জানা গেছে- তারা একদিকে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে নি:স্ব, তার উপর আবার অগ্নিকাণ্ডে বাড়িঘর পুড়ে গিয়ে আরো অসহায় হয়ে পড়েছে। পাঁকা ইউনিয়নে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গমের চর গ্রামে গেল ২০২২ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে এক অগ্নিকাণ্ডে পার্শ্ববর্তী দুটি পরিবারের কয়েকটি ঘর পুড়ে যায়। ওই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর ভাঙনে জমিজমা হারিয়ে আমি টিউশন পড়িয়ে বয়স্ক বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোন রকমে দিন কাটায়। হঠাৎ আগুনে আমার পশ্চিম ভিটার ঘর দুটি পুড়ে যায়। কোন রকমে বাড়ির বেড়া ঘিরেছি। কিন্তু এখনো ঘর করতে পারিনি। ইউপি চেযারম্যানের নিকট আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইতেও পারি না। আরেক ক্ষতিগ্রস্থ আসলাম আলী বলেন, পার্শ্ববর্তী বাড়ির চুলার আগুনে আমার দুটি ঘর পুড়ে যায়। আমি নিজে মিস্ত্রির কাজ করি। কিন্তু ঘর জোগাড় করতে পারছিনা। শুনেছি সরকার সহযোগিতা করে। কিন্তু বড় দুঃখ, ৬ মাস হয়ে গেল এখনো ১ টাকারও সহযোগিতা পাইনি। মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের আবদুস সালাম বলেন, আমার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় এক বছর পার হয়ে গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও পিআইও’র কাছে একাধিকবার খোঁজ নিয়েও কোন লাভ হয়নি। শুধু শুনতে হয়েছে সাহায্য আসলেই পাবেন। একইভাবে বিনোদপুর, দূর্লভপুর, শ্যামপুর, দাইপুখুরিয়া, মোবারকপুর ও শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থ পবিবারগুলোর সাথে কথা বলে একই ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, গত এক বছরে শিবগঞ্জে বজ্রপাতে তিনজন মারা গেছে। এছাড়া আগুনে ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৭১টি পরিবার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এদের সবার তালিকা যথারীতি পাঠানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৭৪টি পরিবারের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ঈদের আগেই প্রতিটা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবার যদি গরীর হয়, তবে তারা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা পেতে পারে। চলতি অর্থবছরে তিনটি পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। বাকি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৭১টি পরিবারকে তালিকায় বরাদ্দ অনুয়ায়ী আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন