৫ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

ফখরুলের কাছে সরকার পতনের দিনক্ষণ জানতে চাইলেন কাদের

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৩, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি
ফখরুলের কাছে সরকার পতনের দিনক্ষণ জানতে চাইলেন কাদের
বিজ্ঞাপন

এফএনএস

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন কবে হবে তার নির্দিষ্ট সময় ও দিনক্ষণ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার (২০ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ওলামা লীগের জাতীয় সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, তীব্র বেগে নাকি ঝড় আসবে, সেই ঝড় শেখ হাসিনার গদি উলটে দেবে। কত নম্বর বিপদ সংকেত তা বলেননি। ঝড়ের কথা শুনছি ১০ বছর ধরে। ১০ বছর ধরে শুনছি, আর সরকারের সময় নেই। দেখতে দেখতে ১৪ বছর, ঝড় হবে কোন বছর? দেখতে দেখতে ১৪ বছর সরকার যাবে কোন বছর? তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলকে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই-কয়েক দিন আগে ঝড় কেটে গেছে, শেখ হাসিনা আল্লাহর ইমানদার বান্দা সেই জন্য বাংলাদেশে ওই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের মধ্যেও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ফখরুল সাহেব, কবে সময় শেষ বলেন না কেন? সন-তারিখ বলেন, সময় বলেন, আমরা একটু তৈরি হই। কীভাবে ঝড় আসবে, ঠাকুরগাঁও থেকে আসবে নাকি লন্ডন থেকে আসবে? কোথা থেকে ঝড় আসবে সেটা একটু বলে দিন। কত নম্বর বিপদ সংকেত তাও বলে দিন। মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সরকারের বিদায় দেবেন, সরকারেরও তো একটা প্রস্তুতি আছে। ফখরুল সাহেব একে একে কত কর্মসূচি দেন। সরকারের সময় শেষ প্রতিদিনই বলছেন। আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চাই, সময়টা কখন, দিন-ক্ষণটা একটু বলুন, ১০ বছর ধরে তো শুনতে পাচ্ছি সরকারের সময় শেষ। এই সরকারের সময় কত এইটা জানে মহান সৃস্টিকর্তা আর এ দেশের জনগণ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, শোনেন, ফখরুল সাহেব, এত হল্লাচিল্লা করে ৫২ দল, ৫৪ দল, ২৭ দফা, ১০ দফা, বিক্ষোভ সমাবেশ, তারপর পদযাত্রা, তারপর অবস্থান, তারপর মানববন্ধন একে একে কত কর্মসূচি দিলেন, কী হলো? আপনাদের আন্দোলন এখন পথ হারিয়ে দিশেহারা পথিকের মতো। নানামুখি হাঁক-ডাক দিয়ে এখন পথিক পথহারা। প্রতিদিনই বৈঠক করে কর্মসূচি ঠিক করে, বার বার বসেও আন্দোলনের রূপরেখা এখনও ঠিক করতে পারেননি। কাজেই আমাদের ইমান ঠিক আছে। আওয়ামী লীগের শিকড় এই দেশের মাটির অনেক গভীরে, আওয়ামী লীগ কচুপাতার ওপর ভোরের শিশির বিন্দু নয় যে, টোকা লাগলে পড়ে যাবে। এ কথা যদি মনে করেন ভুল করছেন। আওয়ামী লীগও আন্দোলনের মধ্যে আছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সারা বাংলাদেশে, আমরাও একটা আন্দোলনে আছি। বিএনপি আছে সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে। আমরা আছি জনগণের জানমাল রক্ষার আন্দোলনে। জনগণের জানমাল রক্ষায় আমাদের আজ শান্তি সমাবেশ করতে হচ্ছে। আমরা সন্ত্রাস চাই না, আমরা শান্তি চাই। আমরা সাম্প্রদায়িকতা চাই না, আমরা চাই অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতাবোধ। যে চেতনায় বঙ্গবন্ধুকন্যা স্বল্পোন্নত বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নশীল বাংলাদেশে রূপান্তর করেছেন। আওয়ামী ওলামা লীগের প্রথম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের নানা দিকনির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ওলামা লীগকে স্বীকৃতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে তাদের সহযোগী সংগঠন করা হবে নাকি সমমনা সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে সেটা ঠিক করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ক্ষবক্তব্য দানকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী ওলামা লীগের একটি ইচ্ছে ছিলে যে সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠিত হবে। তার জন্য সময় লেগেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আজ তা সম্ভব হয়েছে। আমি ১০১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছি যাতে ত্যাগী ও সিনিয়র নেতারা স্থান পাবেন। তিনি বলেন, কমিটিতে যেন বাস্তবতার ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিফলন থাকে। নেতাদের অবশ্যই দলীয় শৃঙ্খলায় আসতে হবে। ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজপথে ওলামা লীগের কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝে কিছুটা স্বেচ্ছাচারিতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে সেসব কাটিয়ে উঠে যেন একটি যোগ্য কমিটি তৈরি হয়। দলাদলি করে বদনাম কামাবেন না। এসব করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নব্বইয়ের দশকে ওলামা লীগের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সালের পর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বাড়তে দেখা যায়। এরমধ্যেই অনেক ভাগে বিভক্ত হয়ে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডেও জড়ানোর অভিযোগ ওঠে এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে ওলামা লীগ নামে কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই দাবি করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের স্বীকৃতি দিলো ক্ষমতাসীন দলটি। ওলামা লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান। দুই নেতাই তাদের বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওলামা লীগের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে একে আমরা একটি সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত নীতি আদর্শের প্রতি অনুগত বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের সৈনিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সংগঠনটি নেতাকর্মীদের দলাদলি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করারও নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। ওলামা লীগ দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে ছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, পুলিশের আক্রমণের মুখেও রাজপথ ছাড়েননি এবং নেত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন সেই নির্দেশ তারা অমান্য করেননি। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, তারা সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠিত হবে। সময় লেগেছে, তবে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশের এই সম্মেলন হচ্ছে। ওলামা লীগের কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের আদর্শিক রাজনীতি প্রতিফলিত হবে বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের। ঢাকা মহানগরে দুটিসহ সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনটির কমিটি গঠনের কথা বলেন কাদের। ওলামা লীগের আহ্বায়ক আবদুল মোমিন সিরাজীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ওলামা লীগের নেতা হাফেজ মওলানা মিজানুর রহমান প্রমুখ।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন