২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

আজ লালপুরে গণহত্যা দিবস

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৩, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
আজ লালপুরে গণহত্যা দিবস
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার, লালপুর
আজ ৫ মে উত্তরবঙ্গের ভারি শিল্প নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে গণহত্যা দিবস। মিল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে শহীদদের স্মৃতির স্মরণে পুষ্পস্তবক অপর্ন, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল সহ নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে আসছে। জানা যায়, ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনী মিলটি অবরুদ্ধ করে তৎকালীন প্রশাসক লে. আনোয়ারুল আজিম সহ ৪২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং শতাধিক বাঙালিকে ব্রাশফায়ার করে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

স্বাধীনতার পর শহীদদের সলিল সমাধির নীরব স্বাক্ষী গণহত্যা স্থলের পুকুরটির নামকরণ করা হয়েছে ’শহীদ সাগর’। এছাড়া শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।সেখানে মিলের তৎকালীন প্রশাসক লে. আনোয়ারুল আজিম সহ ৪২ জন বাঙালি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নামের তালিকা লেখা আছে। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। আর মিলের তৎকালীন প্রশাসক লে. আনোয়ারুল আজিম এর নামে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন নামকরণ করা হয়।

লালপুর বাসীর জন্য এটি একটি শোকাবহ দিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দেশের সব গুলো মিল,কল-কারখানা বন্ধ থাকলেও হানাদার বাহিনীর নাটোর ক্যাম্পে মেজর শেরওয়ানি খানের আশ্বাসে এবং এলাকার আখচাষীদের স্বার্থ বিবেচনা করে মিলের তৎকালীন প্রশাসক আনোয়ারুল আজিম মিলের উৎপাদন অব্যাহত রাখেন।কিন্তু হানাদার বাহিনীর মেজর তার ওয়াদার বরখেলাপ করে। পরে মিলের সব গুলো প্রবেশ পথের দরজা বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবরুদ্ধ করে এবং অবাঙালিদের যোগসাজশে শতাধিক বাঙালিদের শনাক্ত করে মিলের গোপাল পুকুর (বর্তমান শহীদ সাগর) পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের চোখ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে নির্মম ভাবে হত্যা করে এবং লাশ গুলো ওই পুকুরে ফেলে দেয়। ওই দিনই হানাদার বাহিনী গোপালপুর বাজার এলাকায় আরো সাত জন বাঙালিকে গুলি করে নির্মম ভাবে হত্যা করে বলে জানা যায়।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন