গোমস্তাপুরে কৃষিতে যুগোপযোগী সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু
গোমস্তাপুর সংবাদদাতা
জমির অপচয় রোধে সময়োপযোগী নতুন এ পদ্ধতির নাম সমলয়। এটা বীজতলা থেকে ফসল কাটা সবই একই সময়ে একযোগে করা হবে। স্বল্প মানুষের সাহায্যে যন্ত্র ব্যবহার করে এ পদ্ধতিতে ধান ঘরে তুলা যাবে। বাংলাদেশে এ পদ্ধতি আগে থেকে চালু হলেও গ্রামাঞ্চলে কৃষিতে এ পদ্ধতির ব্যবহার তেমনটা লক্ষ্য করা যায় না। সরকার কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে টেকসই যান্ত্রিকীকরণের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার একটি হচ্ছে সমবায়ভিত্তিক সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতি। যখন সব কিছুর দাম উর্ধ্বমুখী তখন কৃষি অধিদপ্তরের চেষ্টায় খরচ কমাতে কৃষককে লাভবান করাতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের বিস্তার ঘটাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের ষাড়বুরুজ এলাকায় ৫৪ জন কৃষকের ১৫০ বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ করা হবে। সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে রহনপুর ইউনিয়নের ষাড়বুরুজ এলাকায় এ পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষাবাদ করবেন তোফাজ্জল ইসলাম। তিনি বলেন, এলাকার কৃষি অফিসার আমাদের খুব পরিচিত। এ পদ্ধতিতে কিভাবে কি করতে হয় আমরা তো আগে কিছুই জানতাম না। কৃষি অফিসার আমাদের এলাকার পরিচিত হওয়ায় এবং আমাদের বিভিন্নভাবে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কি পরিমাণে লাভবান হওয়া যাবে তা যখন আমাদেরকে জানায় তারপরে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ করতে আগ্রহী হই। বেশ কিছুদিন থেকে ট্রেতে বীজ তলা লাগানোর পরে ধান রোপন শুরু করেছি। এক্ষেত্রে আমরা যেমন কম খরচে বেশি ধান পাব। সেক্ষেত্রে লাভবানও হবো।
একই এলাকার কৃষক সামিরুল ইসলাম বলেন, একবিঘা জমির ধান ঘরে তুলতে যেখানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হতো। সেখানে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ কম হবে। আমরা কৃষকরা এ পদ্ধতিতে ধান আবাদ (চাষাবাদ) করে বেশী লাভবান হব। কৃষি অফিস যদি প্রতিবছর আমাদের এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য এগিয়ে আসে, সেক্ষেত্রে আমরা বেশি লাভবান হব।
তিনি আরো বলেন এবার ৫ বিঘা জমিতে ধান লাগাবো। ধান লাগাতে ৪ টি পাইটে (শ্রমিক) ২ হাজার টাকা, হালে (জমি চাষ) ৮’শ টাকা, ঘাস তুলতে ২ টা পাইটে (শ্রমিক) ১ হাজার টাকা, বিষ ও পানি সহ সব মিলিয়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা।
ধান কাটার জন্য বিঘা প্রতি ৫ মন করে লাগবে। এরপর গাড়ি ভাড়া দিয়ে ঘরে ধান তুলতে দেখছি বিঘা প্রতি সাড়ে ১৩ হাজার টাকা খরচ হবে। প্রথমে কৃষি অফিস থেকে এই পদ্ধতিতে আমাদের ধান লাগা, কাটা ও মাড়া সবকিছু করে দেবে। এ পদ্ধতি আমরা কোনদিন দেখিনি, শুনিনিও।
ইকবাল হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, এই পদ্ধতিতে ধান লাগানোর জন্য আমরা কৃষকরা আগে তেমন আগ্রহী ছিলাম না। কারণ কিভাবে কি করতে হবে তাতো আমরা জানতাম না। এটা করে লাভ হবে, না লোকসান হবে, তা নিয়ে খুব ভয়ে ছিলাম। কিন্তু এখন বিছনের (চারা) থাইল (বীজতলা) তৈরি হয়ে যাওয়ার কারণে খুব খুশি হয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় থেকে এমন পদ্ধতি দেখতে অনেকেই আসছে এবং এই পদ্ধতি সম্পর্কেও জানছে। আমাদের দেখে অনেক চাষী এই পদ্ধতিতে সামনে আবাদ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সমলয় পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভির আহমেদ সরকার বলেন, আধুনিক কৃষির সময়োপযোগী প্রযুক্তি হচ্ছে সমলয়। নতুন এই পদ্ধতিতে বীজতলা থেকে ফসল কাটা, সবই এক সময়ে একযোগে করা হবে। স্বল্প মানুষের সাহায্যে কাজটা করবে যন্ত্র। এতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কম হবে। এই উপজেলার কৃষিতে নতুন সংযোজন এই পদ্ধতি। এটি প্রথমে রহনপুর ইউনিয়নের ষারবুরুজ এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যে ট্রেতে বীজ বপন প্রক্রিয়া শেষে ধান রোপন করা শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জমির অপচয় কমাতে প্রচলিত রীতি বাদ দিয়ে প্লাস্টিকের ট্রেতে লাগানো হয়েছে ধানের বীজ। তা ২০ থেকে ২৫ দিনের বয়সের চারা রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ করা হবে। একটি ট্রান্সপ্ল্যান্টার ঘণ্টায় এক একর জমিতে চারা লাগাতে পারবে। একই গভীরতায় সমানভাবে চারা লাগানো যাবে। একই সময়ে চারা রোপণ করায়, নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধান পাকেও একই সময়ে। মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কাটা ও মাড়াই করা যাবে। বেশী জমিতে ধানের চাষাবাদ করতে এই পদ্ধতিতে যন্ত্রের ব্যবহার হবে সাশ্রয়ী। এছাড়াও হাইব্রিড জাতের এসএলএইট-এইচ এই ধান বিঘা প্রতি ৪০ মণের মতো হবে।
