৪ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

পত্নীতলার ওসির নির্যাতনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২১, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
পত্নীতলার ওসির নির্যাতনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : নওগাঁর পত্নীতলায় পারিবারিক সমস্যা সমাধানের নামে থানায় নিয়ে এসে হামিদুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের মাধ্যমে প্রথমে আহত করে পরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা ওসির বিচার দাবীতে লাশ নিয়ে পত্নীতলা থানা চত্বরে অবস্থান করে। পরে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ নওগাঁ মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ বুধবার বিকেলে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বোরাম গ্রামের মৃত খোদা বকসের পুত্র হামিদুর রহমান এর সাথে তাঁর স্ত্রী ফাহিমার পারিবারিক দ্বন্দ দেখা দিলে হামিদুর কয়েকদিন পূর্বে তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন। এ ঘটনায় হামিদুরের ২ছেলে তাকে মারধর করলে সে থানায় অভিযোগ করেন।

১৭ এপ্রিল থানায় এক সমঝোতা বৈঠকে হামিদুর তাঁর স্ত্রীকে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। ২৫ এপ্রিল হামিদুরের স্ত্রী ফাইমা থানায় গিয়ে অভিযোগে জানান যে, তাঁর স্বামী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে এখনও গ্রহণ করেননি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই তারিখে পুলিশের উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম সমঝোতার কথা বলে হামিদুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় থানায় ফাহিমা ও হামিদুরের স্বজন ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন। সমঝোতা বৈঠকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুল আলম শাহ ক্ষিপ্ত হয়ে হামিদুরকে উপর্যুপুরি কিল-ঘুষি এবং লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে হামিদুরের মাথা ইটের ওয়ালের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগলে সে আহত হয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে আহত হামিদুরকে থানা হাজতে বন্দি করে রাখা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। হামিদুরের সাথে থাকা খালাতো ভাই ফারুক হোসেন ও প্রতিবেশী নইমুদ্দিন আহত অবস্থায় তাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতেই সে গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসা করছিল। ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হামিদুর রক্ত বমি শুরু করলে তাঁকে প্রথমে পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ডাক্তারের পরামর্শে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রাত ১১টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনরা রাতেই এ্যাম্বুলেন্স যোগে লাশ পত্নীতলা থানায় নিয়ে আসে।

বুধবার সকালে লাশের ময়নাতদন্তের পর বিকেলে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের মা আছিয়া বলেন, আমার ছেলেকে ওসি বুকে লাথি মারায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ছেলে হত্যার বিচার চান তিনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুরের খালাতো ভাই ফারুক বলেন, ওসির মারধরে দুবার হামিদুরের মাথা ইটের দেওয়ালের সাথে ধাক্কা লাগায় সে চরমভাবে আহত হয়। ওসির মারপিটের ভয়ে হামিদুর স্ত্রীকে নিতে রাজী হলেও তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয়। ওসির মারপিটের কারণেই হামিদুরের মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো জানান, লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে সুষ্ঠ বিচারের জন্য। কিন্তু থানা পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টায় যখন হামিদুরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন তিনি রক্ত বমি করছিলেন।

তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এ বিষয়ে পত্নীতলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুল আলম শাহ সমঝোতার জন্য হামিদুরকে থানায় ডেকে নিয়ে আসার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাকে কোন মারধর করা হয়নি। ঘটনার ৩দিন পর অসুস্থ্যতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফতাব উদ্দীন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। থানা পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক অবস্থায় তাঁর সত্যতা পাওয়া যায়নি। অন্য কোন কারণে হামিদুর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যুও হতে পারে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন