লালমনিরহাট জেলায় আ’লীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে আহত ১০
এফএনএস : লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নামে থানায় মামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শহরজুড়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় লালমনিরহাট শহরের গোসলা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে আগামীকাল সোমবার লালমনিরহাটে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় জেলা ছাত্রলীগ। গত শুক্রবার রাত ৮টায় জেলা ছাত্রলীগ অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন লালমনিরহাট পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পাপ্পু। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে থানায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেত-কর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পাপ্পু। পাপ্পু বলেন, লালমনিরহাট জেলায় এক যুগ ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান একনায়কতন্ত্র কায়েম করে লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান তার আপন ভাগনে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হতে না পারায় বক্করের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন পায়তারা করে আসছেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর এর প্রতিবাদ করায় প্রয়াত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ মো. দুলালসহ সর্বসাধারণের সমর্থনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠছিলেন। তাকে দমাতেই অ্যাডভোকেট মতিয়ার তার আপন বোনের বাড়িতে হামলা ও বোনকে আহত করার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করকে দায়ী করে গত শুক্রবার বিকেলে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন। বিষয়টি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কানে আসার পরপরই প্রতিবাদ জানায়।
সেইসাথে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা ছাত্রলীগ জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও থানায় অবস্থান নেয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সোমবার লালমনিরহাট জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দেয়া হবে। এরপরও যদি সমাধান না হয়, তাহলে পরবর্তীতে কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। মুঠোফোনে ছাত্রলীগ সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাদের এই ভিত্তিহীন অভিযোগ। এ হামলার সাথে তিনি বা তার প্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয়।
