রবিবার

২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
চামড়া সিন্ডিকেট-কোরবানীর পশু নিয়ে চাঁদাবাজি দেখতে চাই না : এমপি মিলন রামিসা হত্যার বিচার হবে এক মাসের মধ্যে, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর শেরে বাংলা ছিলেন বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা-সামাজিক মুক্তির অগ্রদূত : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য ঈদ উপহারের চেক গ্রহণ করলেন রাসিক প্রশাসক দুই পা নেই, শুধু হাতের ওপর ভর করেই মাউন্ট এভারেস্ট জয় গাজায় ইঁদুরবাহী রোগে আক্রান্ত ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ রাজশাহী নগরীতে ত্রাস সৃষ্টির দায়ে কিশোর গ্যাং এর ২ সদস্য গ্রেফতার রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ডিম নিক্ষেপ রাজশাহীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আঞ্চলিক পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠান

ঘরে কুকুর থাকলে কি আমল নষ্ট হবে?

Paris
Update : শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

এফএনএস : পবিত্র কুরআন বলছে : ‘পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে আর যত পাখি দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, তারা সবাই তোমাদের মতো একেক জাতি।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮) সে হিসেবে বলা যায়, কুকুর আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। জৈনক ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, তিনি তার ঘরে কুকুর রাখেন তবে কি তার আমল নষ্ট হবে?
শায়খ মুহাম্মদ আল-মুখতার আশ-শিনকিতি বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু পাহারা ও শিকারের কাজেই কুকুর পালার অনুমতি আছে। সুতরাং আপনি যদি এ উদ্দেশ্যেই কুকুর পালেন, তবে এতে আপনার আমল নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

কুরআনে আল্লাহ আসহাবে কাহাফের কুকুরের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে।” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ১৮)
অর্থাৎ আসহাবে কাহাফের কুকুর তাদের পাহারা দিচ্ছিল, যাতে কেউ তাদের নির্জন অবস্থানে বিরক্ত না করে।
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাহারা বা শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালে, তবে প্রতিদিন তার আমল থেকে দুই কিরাত পরিমান সওয়াব কমতে থাকবে।” (বুখারী ও মুসলিম) সুতরাং, পাহারা ও শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালা উচিত হবে না।

আরও কয়েকটি ফতোয়া দেখুন : শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসল হেফাজতের উদ্দেশ্যে, পাহারাদারির জন্য, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির হেফাজতের লক্ষ্যে, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালন করা বৈধ। (ফতোয়াতে মাহমুদিয়া : খ. ১৮, পৃ. ২৬৪/ ফতোয়ায়ে আলমগিরি : খ. ৪, পৃ. ২৪২)

শখ করে ঘরে কুকুর রাখা, মানুষের চেয়ে কুকুরের যত্ন বেশি নেওয়া, কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।’ (মুসলিম : হাদিস ১৫৭৫; তিরমিজি : হাদিস ১৪৮৭)

অন্য হাদিসে আছে, ‘এক কিরাত হলো, উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ।’ (মুসনাদে আহমদ : হা. ৪৬৫০) আমাদের হানাফি মাজহাব মতে, কুকুরের শরীর নাপাক নয়। তাই কুকুর কারো শরীর বা কাপড় স্পর্শ করলে তা নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর মুখ দিয়ে কারো জামা টেনে ধরলে যদি কাপড়ে লালা লেগে যায়, তবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে; অন্যথায় নাপাক হবে না। (আল-বাহরুর রায়েক : ১/১০১; ফতোয়াতে হিন্দিয়া : ১/৪৮; আদ্দুররুল মুখতার : ১/২০৮)

আল্লাহই উত্তম জ্ঞানের অধিকারী।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris