এফএনএস : চীনের চ্যাং’ই চন্দ্রযান সফলভাবে চাঁদের পিঠে অবতরণ করেছে বলে চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিএনএসএ) ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার চীনের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১১ মিনিটে চন্দ্রযানটি চাঁদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নামে বলে সিএনএসএর বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। নামার পর থেকে রোবটিক চন্দ্রযানটি যন্ত্রপাতি ও পরিস্থিতি পরীক্ষা করছিল। এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে চাঁদের পিঠে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল যানটি। এ সময়ে চন্দ্রযানটি প্রায় দুই কিলোগ্রাম নমুনা সংগ্রহ করে একটি কন্টেইনারে আবদ্ধ করে রাখবে।

এরপর কাজ শেষে মানুষবিহীন চ্যাং’ই পৃথিবী থেকে প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার কিলোমিটার দূরে চাঁদের কক্ষপথে অবস্থান করা মূল মহাকাশযানে ফিরবে। এই মহাকাশযানটিই চন্দ্রযানটিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২৪ নভেম্বর চ্যাং’ই মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছিল চীন। এই মহাকাশযানে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার জন্য নকশা করা একটি অর্বিটার, একটি চন্দ্রযান ও চন্দ্রযানকে চাঁদের পিঠে নামানোর ও ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা সম্পন্ন আরও দুটি যান আছে। মঙ্গলবার চীনের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে মূল মহাকাশযানটি (অর্বিটার) চাঁদের পিঠ থেকে ১৫ কিলোমিটার উপরে কক্ষপথে অবস্থান নেয়। এখান থেকেই চন্দ্রযানটি চাঁদের পিঠে নামে।

চন্দ্রযানটি স্বংয়ক্রিয়ভাবে বাধা (চাঁদের পৃষ্ঠ) সনাক্ত করার পর চাঁদের নিকট প্রান্তের ‘ঝড়ের মহাসাগর’ বলে পরিচিত এলাকার উত্তরে অবতরণ করে। নামার সময় থেকেই চন্দ্রযানটির বাইরে লাগানো ক্যামেরা অবতরণ স্থানের ছবি পাঠানো শুরু করে বলে জানিয়েছে সিএনএসএ। চন্দ্রযানে স্থাপন করা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে অবতরণের স্থান ও নমুনা সংগ্রহের এলাকায় জরিপ চালানোর জন্য কয়েকটি ক্যামেরা, ওই এলাকার মাটির উপদান নির্ণয় করার জন্য একটি ইনফ্রারেড স্পেকট্রোমিটার ও পৃষ্ঠের গঠন অনুসন্ধানের জন্য একটি যন্ত্র আছে।

চায়না এয়ারোস্পেস সায়েন্স এণ্ড টেকনোলজি কর্পোরেশনের আওতাধীন চায়না একাডেমি অব স্পেস টেকনোলজির চ্যাং’ই মিশনের উপপ্রধান নকশাবিদ পাং জিং জানিয়েছেন, চ্যাং’ই ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে পৃথিবী থেকে চাঁদের নমুনা সংগ্রহে যাওয়া প্রথম মিশন। তাদের চন্দ্রযানটি চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি মাটি খুঁড়ে নিচ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মিশন থেকে ফেরার পর মহাকাশযানটি চীনের উত্তরাঞ্চলীয় অন্তঃমঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সিজিওয়াং ব্যানারে অবতরণ করবে। পুরো মিশনটি সফলভাবে শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পর এ ধরনের অভিযান চালানো তৃতীয় দেশ হবে চীন।