মঙ্গলবার

২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরের কৃষ্ণপুর স্কুলে কম্পিউটার ক্লাস হয় না

Paris
Update : সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
Exif_JPEG_420

তানোর প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর  ইউনিয়নের (ইউপি) কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক খলিলুর রহমান তেমন কম্পিউটার চালাতে পারেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ খলিলুুর স্যার তেমন কম্পিউটার  চালাতে না পারায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার শিক্ষা (হাতে-কলমে) অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা জানায়, সরেজমিন তদন্ত করলেই এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। এছাড়াও স্কুুুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হয় না। এমনকি ক্রটিপুর্ণ সনদের কারণে তার টাইম স্কেল হচ্ছে না। এসব ঘটনায় এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে অদক্ষ শিক্ষককে অপসারণ করে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার এলাকাবাসি ডাকযোগে স্থানীয় সাংসদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষক খলিলুর তেমন কম্পিউটার পরিচালনা করতে না পারলেও সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে  সরকারি বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে যেটা এমপিও নীতিমালা পরিপন্থী।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নীতিমালায় বলা আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার শিক্ষককে ওয়েবসাইট তৈরীসহ (অনলাইন)-এর যাবতীয় কাজ করতে হবে। এছাড়াও কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে সরকার অনুমোদিত চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার) জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার বগুড়া) ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি মেহেরপুর, যুবউন্নয়ন অধিদপ্তর (মশরপুর নওগাঁ) এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট অর্জন ব্যতিত এমপিওভুক্ত করা যাবে না। ওদিকে খলিলুর  তেমন কম্পিউটার পরিচালনা করতে না পারায় স্কুলের সিংহভাগ  কাজ বাইরের কম্পিউটার দোকান থেকে করতে হয়। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের যেমন অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরের মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও আদরী বলে, তাদের স্কুলে কখনই হাতে কলমে কম্পিউটার বিষয়ে পড়ানো হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে স্কুলের উন্নয়নে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি টাকারও উন্নয়ন কাজ না করে প্রধান শিক্ষক এসব টাকা নয়ছয় করেছে বলে আলোচনা রয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, কম্পিউটার শিক্ষক সব কাজ পারে না এই অভিযোগ সঠিক নয়, তবে বাইরের দোকান থেকে কিছু কাজ করতে হয়, যেটা অনেক স্কুল করে থাকে। আর নিয়োগ কিভাবে হয় কারা দেয় সেটা সবাই জানে স্কুলের ফান্ডে কোনো টাকা দেয়া হয়নি। এবিষয়ে কম্পিউটার শিক্ষক খলিলুর রহমান  বলেন, কম্পিউটারের দু একটা জটিল কাজ বাইরে থেকে করা হয সত্য, তবে ক্লাস না নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। এবিষয়ে স্কুলের সভাপতি উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, নিয়োগে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris