বৃহস্পতিবার

১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অসময়ে আম চাষে সফল সেরাজুল

Paris
Update : বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের মহেশপুরে বারোমাসি আম বারি-১১ পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন উদ্যোক্তা সেরাজুল ইসলাম। তিনি ১২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে এ আম চাষ শুরু করেছেন। বর্তমান শীত মৌসুমে তার বাগানে ঝুলছে গাছে গাছে আম, সাথে মুকুলের সমারোহ। ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে ওই বাগানে তার বারোমাসী ম্যাংগো ফার্মে আমরুপালি গাছের চারা নিয়ে শুরু করেন পরিচর্যা। উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে সেরাজুল ইসলামের বসবাস।

উদ্যোক্তা সেরাজুল ইসলাম বলেন, তার চিন্তা ছিল মানুষ বার মাস ধরে আম খেতে পায়না কেন? আম তো পছন্দ সবাই করে। সারা বিশ্বে আমের একটা প্রচুর চাহিদা আছে, পরিচিতিও আছে। যথাসময়ে আম শেষ হয়ে গেলেও, আম খাওয়ার আনন্দটা হারায় না। এসব সখের কথা ভেবে পনের বছর আগে একটি জাত সংগ্রহ করা হয়, পরে বোয়ালিয়া এলাকায় এক বিঘা জমিতে ওই গাছের চারা লাগিয়ে বাগান তৈরি করি। আম পাকার পরে তা আর খাওয়া যেত না। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে ২০১৮ সালে তার ভাই কমান্ডার রেজাউল করিমের পরামর্শে আরেকটি বাগান তৈরি করি।

বাগানে একটি প্রজেক্ট উপস্থাপণ করি। সেই প্রজেক্টে পরীক্ষামূলকভাবে আম উৎপাদনে সফলতা অর্জন করি এবং ভালো একটা মুনাফা পাই। এর সূত্র ধরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে ১২ বিঘা জমিতে বাড়ি-১১ জাতের আম চাষাবাদ শুরু করি। ২০১৯ সালের জুন মাসে আম বাগানের প্রজেক্ট হিসেবে আমরুপালি আমগাছ থেকে সাইনিং করে বারি-১১ আমের উৎপাদন শুরু করি। ওই বাগান তৈরি করতে জমির মালিকের কাছে বছরে বিঘা প্রতি ২৫ হাজার করে, ১২বছরে ৩০ লক্ষ টাকায় জমি লিজ নেই।

গাছ পরিচর্যার বিষয়ে সেরাজুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন রকম বই পড়া থেকে শুরু করে, নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে গাছের পরিচর্যা করে ভালো মানের গাছ তৈরি করেছেন। অন্য কৃষকের থেকে তার পরিচর্যা একটু অন্যরকম। অন্যরকম বলতে তিনি বলেন, রাসায়নিক ও জৈব সারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেহেতু খরচ অনেক বেশি, তাই তিনি গাছের ফলন আসার পূর্ব মুহূর্তে সঠিক পরিচর্যায় কম খরচে উপযুক্ত সময়ে গাছে রাসায়নিক ও জৈব সারের পরিবর্তে ভার্মি কম্পোস্ট ও কিছু পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। তিনি হপার ও উইপোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় যথাসময় কীটনাশক বীষ ব্যবহার করাতে পোকা দমন করতে সক্ষম হই। এক কথায় তিনি বলেন, গাছের খাদ্য সঠিক সময়ে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

আম উৎপাদনের বিষয়ে তিনি বলেন, বারি-১১ একটি আম গাছে ৬০ থেকে ৬৫টি আম ধরে,আনুমানিক ২০ কেজি পর্যন্ত হয়। অর্থাৎ একটি আমের পরিমাণ ৩৫০-৭৫০ গ্রাম হয়ে থাকে। আম খেতে মাঝারি মিষ্টি,যার মিষ্টতা অর্থাৎ টি,এস,এস প্রায় ১৮/১৯, হালকা আঁশযুক্ত খুব সুস্বাদু। উপজেলার সফল উদ্যোক্তা সেরাজুল ইসলামের আম উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এলাকায়। তিনি সরকারি প্রণোদনা পেলে বেশি বেশি আম উৎপাদন করে বাংলাদেশ তথা বিশ্বে রপ্তানি করে দেশ ও বিদেশের মানুষকে অসময়ে আমের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

লক্ষ্য করা গেছে, তার বাগানে ১২০টি কাটিমন আমের গাছ ও ৪০টি আশ্বিনা আমের চাষ পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই বাগানে গড়ে প্রতিদিন ১০-১৫জন শ্রমিক কাজ করে থাকে। এ বিষয়ে বাগানের শ্রমিক রহিম জানান, সেরাজুল ইসলাম বাগান তৈরি করার ফলে নিজের ও আশেপাশের খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে। দৈনিক মজুরি হিসেবে ২৫০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকি।

বাগানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের একটি জায়গা হয়ে গিয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার জানান, আমাদের এই গোমস্তাপুর উপজেলায় মোট ৬ হেক্টর জমিতে বারোমাসি আম চাষ হয়। এখন বর্তমানে গাছে রয়েছে বারি-১১, স্যান্ডি, কাটিমণসহ কয়েক জাতের আম। তবে এ বারোমাসি আম যারা চাষ করে তারা প্রায় খুব সৌখিন মানুষ ও স্বাবলম্বী। তাই তাদের তেমন সাহায্যের প্রয়োজন হয়না। তবে আমরা তাদের জমিতে গিয়ে আরও ভালো ফলনের লক্ষে পরামর্শ দিয়ে থাকি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris