এফএনএস : অনেক জটিলতা, অনিশ্চয়তা আর জল্পনা শেষে শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’। বহুল আলোচিত এ সিনেমায় প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন সিয়াম আহমেদ ও পরীমনি। এর আগে কয়েক বার মুক্তির তারিখ ঘোষণা দিয়েও নানা অজুহাতে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। মাঝখানে করোনার কারণে প্রেক্ষাগৃহে ওঠেনি ‘বিশ্বসুন্দরী’। শুরুতে অনেকগুলো সিনেমার কথা শুনলেও মাত্র ২৫টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে। তবে ছবিটি কেমন চলবে সিয়াম-পরীমনি অভিনীত ‘বিশ্বসুন্দরী’? কতটা দর্শকপ্রিয়তা পাবে- তা নিয়ে নানান রকম কথাবার্তা চলছে চলচ্চিত্র মহলে।

নির্মাণের শুরু থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় থাকা ‘বিশ্বসুন্দরী’ গত বছরের ১৮ জুন বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে ছবিটির শুটিং শুরু হয়, কিন্তু শুটিংয়ের শেষদিকে এসে নানান সমালোচনা শুরু হয় সিনেমাটি ঘিরে। সম্প্রতি ইউটিউবে-এর ট্রেলার প্রকাশ হওয়ার পর হতাশ হতে হয়েছে দর্শকদের। ট্রেলার দেখেই অনেকেই ধারণা করেছেন প্রতিবারের মতো এবারও ব্যর্থতার কবলে পড়বে পরীমনির ‘বিশ্বসুন্দরী’। কেউ কেউ আবার দুর্বল গল্প, চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলী নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। ট্রেলারের কমেন্ট বক্সে হতাশার ভাগই বেশি ছিল। বেশিরভাগ মন্তব্যই এমন, ?’পোস্টার আর গান দেখে অনেক আশায় ছিলাম। ট্রেলার দেখে হতাশ হলাম।’ সিনেমার গান দেখে ইউটিউবারের একাংশ বলছেন, পুরোপুরি সিনেমার গানের দৃশ্য মনে হয়নি। অনেকটাই মিউজিক ভিডিওর মতো হয়েছে।

দর্শকের মন্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন এ ছবির সঙ্গে যুক্ত একাধিক শিল্পী। তারা বলেন ‘দর্শকের মতামতকে শ্রদ্ধা করি। তারা যা বলছেন, তা ঠিক হতে পারে। বলার কারণও আছে। গানসহ ছবির শেষ ভাগের শুটিংয়ে কিছুটা ঝামেলাও হয়েছিল।’ কেউ কেউ আবার করোনাকালে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া উচিত হলো না বলেও আখ্যা দিয়েছেন। যদিও এসব মন্তব্য নিয়ে হতাশ নন সিনেমাটির নির্মাতা ও প্রধান পাত্র-পাত্রী সিয়াম ও পরীমনি। বরং ট্রেলার নয়, পুরো সিনেমা দেখে মন্তব্য করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। চলচ্চিত্র মহলের অনেকেই মনে করছেন চয়নিকা চৌধুরী টিভি নাটকে ভালো করলেও তিনি কি পারবেন চলচ্চিত্র দর্শকদের ক্ষুধা মেটাতে? অভিষেকেই চমক লাগানো এত সহজ নয়, যতটা টেলিভিশনে সম্ভব। অনেকের বেলায় তার প্রমাণও মেলেছে।

টিভি নাটকের অনেক পারদর্শী নির্মাতারা চলচ্চিত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকে বিস্তর পার্থক্য থাকায় ছবিটি পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক কিছুতেই হিমশিম খেতে হয়েছে নির্মাতাকে। তাই দুর্বল নির্মাণ হয়েছে বলেও মন্তব্য অনেকের। কারণ প্রথমবার সেন্সর বোর্ডে জমা পড়ার পর ‘বিশ্বসুন্দরী’ নিয়ে সমালোচনা করেন সেন্সর বোর্ডের কয়েকজন সদস্য। আলমগীরের দুটি দৃশ্য এবং কোনো আবহ সংগীত ছাড়াই ছবি জমা দেওয়ার অভিযোগ তোলে সেন্সরবোর্ড। সেন্সরে আটকে যায় সিনেমাটি। সমালোচনার পর চয়নিকা চৌধুরী সবকিছু ঠিকঠাক করে মাস চারেক পর ফের সেন্সর বোর্ডে আবার জমা দেন ‘বিশ্বসুন্দরী’। এরপর ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়।

এদিকে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার আহ্বান জানিয়ে ছবির পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘আমি ও আমার টিম দারুণ কিছু করার চেষ্টা করেছি। যদি কিছু ভুল-ত্রম্নটি হয়ও, আশা করছি সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ছবি দেখে দর্শক মুগ্ধ হবেন।’ এ ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন চম্পা, ফজলুর রহমান বাবু, মনিরা মিঠু, আনন্দ খালেদ প্রমুখ। অতিথি চরিত্রে নায়ক আলমগীর। উলেস্নখ্য, আলোচনা-সমালোচনাকে সঙ্গী করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ছবিটির শুটিং শেষ হয়। সে মাসেই ছবিটির মুক্তির কথা ছিল কিন্তু দর্শক প্রেক্ষাগৃহে পায়নি ‘বিশ্বসুন্দরী’র ঝলক।

এরপর চলতি বছরের শুরুর দিকে এবং তারপর ঈদুল ফিতরে ছবিটির মুক্তির খবর শোনা যায়। করোনায় দীর্ঘদিন সিনেমা হলো বন্ধ থাকার পর খবর রটে অক্টোবরে মুক্তি পাবে ছবিটি। আবার এটিও শোনা যায়, দর্শক সংকটের আশঙ্কায় ছবিটি এ বছরে নয়, আগামী বছরে মুক্তি পাবে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে ‘বিশ্বসুন্দরী’।