বৃহস্পতিবার

১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অভিবাসীদের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান বাংলাদেশের

Paris
Update : শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

এফএনএস : বিশ্বব্যাপী অভিবাসী ও তাদের পরিবারবর্গকে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে করোনাকালে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা-বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল ইভেন্টের উদ্বোধনী বক্তব্যে এই আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আন্তর্জাতিক ফেডারেশন-আইএফআরসি, আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা-আইওএম, জাতিসংঘে নিযুক্ত পর্তুগাল ও মরক্কো মিশন এবং ফ্রেন্ডস অব মাইগ্রেশন গ্রুপ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্রেন্ডস অব মাইগ্রেশন গ্রুপের কো-চেয়ার।

স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিধির প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ এর টিকায় সবার সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা নাজুক অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা, ওষুধ ও সরঞ্জামাদি সহজলভ্য করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান। বিশ্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা পরিধির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নাজুক পরিস্থিতির শিকার অভিবাসীদের সেবাপ্রদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

করোনা মহামারিজনিত কারণে লাখ লাখ অভিবাসী ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। রাবাব ফাতিমা বলেন, ‘গত জুন মাসে গৃহীত ‘অভিবাসীদের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক যৌথ বিবৃতিতে সহ-নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ; যা ১০৩টি দেশের সমর্থন অর্জন করে।’ বিবৃতিটিতে সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা নীতি এবং পরিকল্পনায় অভিবাসীদের স্বাস্থ্য চাহিদার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। করোনা অতিমারি মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তাতে অভিবাসী এবং বিদেশ প্রত্যাগত অভিবাসীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।

অভিবাসনের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবান অভিবাসীই কর্মক্ষম অভিবাসী।’ তিনি আইওএম, আইএফআরসি ও ডব্লিউএইচও-কে এ-বিষয়ক উত্তম অনুশীলন ও নীতিসমূহ পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করার আহ্বান জানান। সর্বত্র অভিবাসীদের অধিকার, কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা মোকাবিলার জন্য সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রদূত। সভাটিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইএফআরসি’র সভাপতি ও আইওএম এর মহাপরিচালক।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris