রবিবার

৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

তানোরে ব্র্যাকের বীজ ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে ব্র্যাকের আলু বীজ ডিলারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, আলু বীজ সঙ্কটের সুযোগে ব্র্যাকের বীজ ডিলার কৃত্রিম সংকট সৃস্টি ও কালোবাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব কারণে প্রায় এক মাস আগে ব্র্যাকের ডিলারদের কাছে টাকা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করেও কৃষকরা বীজ পাচ্ছেন না। আলু বীজ না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তবে খোলা বাজারে ব্র্যাকের আলু বীজ পাওয়া গেলেও গলা কাটা দাম নেয়া হচ্ছে।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে ডিলারগণ প্রয়োজনীয় বীজ না পেলেও এসব খুচরা ব্যবসায়ীরা ব্র্যাকের আলু বীজ পাচ্ছেন কিভাবে-? এদিকে ব্র্যাকের বীজ ডিলারদের কাছে থেকে কৃষকরা নির্ধারিত দামে কোনো বীজ কিনতে পারছেন না, প্রতি বস্তায় ৮শ’ থেকে হাজার টাকা বেশী নেয়া হচ্ছে,তবে কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না, কখানো দিলেও রশিদে দাম লেখা হচ্ছে না। কৃষকদের অভিযোগ, তালন্দ বাজারের ব্র্যাকের বীজ ডিলার শাহীন আলম মাস্টার অধিক মুনাফার আশায় বীজ দোকানে না নিয়ে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন এলাকার আলুর প্রজেক্টে সরাসরি বিক্রি করে দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,গত রোববার দুপুরে কালনা ইব্রাহিম আলীর আলুর প্রজেক্টে এক ট্রাক ব্র্যাকের বীজ আলু নামানো হয়েছে, এর আগে গত শনিবার চকপাড়া খাইরুল মাস্টারের আলুর প্রজেক্টে এক ট্রাক ও চাপড়া বাজারে এক ট্রাক ব্যাকের বীজ আলু নামানো হয়েছে,। শ্রমিকরা জানান, শাহীন মাস্টারের কাছে তারা এসব বীজ কিনেছেন। অথচ শাহীন মাস্টারের দোকানে গিয়ে কৃষকরা আলু বীজ পাচ্ছে না-? ফলে প্রশ্ন উঠেছে শাহীন মাস্টারের নামে বরাদ্দকৃত ব্র্যাকের বিপুল পরিমাণ আলু বীজ গেলো কোথায়-? এদিকে তালন্দ বাজারের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে ব্র্যাকের বীজ প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন তবে তিনি ব্র্যাকের বীজ ডিলার না হয়েও বীজ পাচ্ছেন কোথায় সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, তানোরে চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধান করা হয়েছে আলু বীজের চাহিদা প্রায় ৫৮০ মেট্রিক টন। তানোরে ব্র্যাকের অনুমোদিত বীজ ডিলার শাহীন আলম মাস্টার বলেন, তানোরে প্রায় ৫৮০ মট্রিক টন আলু বীজের চাহিদা রয়েছে, তবে তাকে মাত্র ১৮০ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এর মধ্যে এখন পর্যন্ত্য তিনি মাত্র ৭০ মেট্রিক টনের মতো আলু বীজ পেয়েছেন। তিনি বলেন, এবার ব্র্যাক নির্ধারিত মুল্য (নায্যমুল্য) কৃষকের কাছে আলু বীজ বিক্রি করা হচ্ছে। কালনা ও মাদারীপুর গ্রামের কয়েক জন কৃষক জানান, তারা এক মাস আগে ডিলার শাহীনের কাছে টাকা জমা দিয়েছেন তবে এখানো আলু বীজ পায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাকের আলু বীজ ডিলার শাহীন আলম মাস্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম তাই বীজের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তিনি ভলেন, বেশী দাম নেয়া বা বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ সঠিক নয়।তিনি বলেন, যাদের বীজ দিতে পারিনি তাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris