মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে আমের ভাল দাম পেয়ে খুশি কৃষক

Paris
Update : সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

পোরশা সংবাদদাতা : গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর আমের ভাল দাম পেয়ে খুশি নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলের আম চাষীরা। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর বাজারে সকল প্রকার আম তিন গুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এবছর আমের ফলন কম। তবে ভাল দাম পেয়ে ক্ষতিপুষিয়ে যাচ্ছে চাষীদের।
নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলের বাতাসে বইছে এখন পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রান। গাছে গাছে দেখা দিয়েছে বছরের শ্রেষ্ট ফল পাকা আম। এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে ফরমালিনমুক্ত গাছ পাকা তরতাজা আম।
পাখিরা এখন গাছের ডালে বসে রসালো পাকা আম খাচ্ছে আর মোনের সুখে গাইছে প্রাণের গান। আম চাষী, ব্যবসায়ী, কৃষক, দিনমজুররা আম পাড়ায় ব্যস্ত। অনেকেই পরিবারের সকলে মিলে একসাথে বসে পাকা আম খাওয়ায় ব্যস্ত, আবার কেউ আত্মীয় স্বজনের বাসায় পাকা আম পাঠানোই ব্যস্ত।
পোরশা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সারাইগাছী বাজার, পোরশা সদর বাজার, তেঁতুলিয়া বাজার, নোচনাহার বাজার, শিশা বাজার ও বড়গ্রাম বাজার এবং সাপাহার উপজেলা সদরের আমের আড়ৎ গুলোতে গাছ পাকা আম কেনা বেচা শুরু হয়েছে। আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম ভেঙ্গে বাজারে বিক্রি করা শুরু করেছেন। অনেক বাগান মালিকরা গাছেই আম ঠিকায় (কনটাকে) বিক্রি করছেন।
গাছে সকল জাতের আম পাকা দেখা না গেলেও গত কয়েকদিনে গুটি জাতীয়, গোপালভোগ ও খিরসাপাত(হিমসাগর) আম পাকা দেখা দিয়েছে। এ জাতীয় আমগুলো গাছ থেকে নামাতে নামাতেই পাকা দেখা দিবে আমের রাজা বলে খ্যাত ল্যাংড়া, এর পর পর্যায়ক্রমে ফজলী, রূপালী ও আশ্বীনা।
গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর আমের ভাল দাম পেয়ে খুশি আম চাষীরা। এবছর গুটি জাতীয় আম ১মন (৫২কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১৫০০টাকা পর্যন্ত। গোপালভোগ একই ওজনে প্রতি মন আম বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ থেকে ২৮০০টাকা পর্যন্ত। আর খিরসাপাত(হিমসাগর) প্রতি মন বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত।
পোরশা উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজারের আমের আড়ৎগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপকভাবে আম বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এ উপজেলার বিভিন্ন আড়ৎ থেকে প্রায় অর্ধ শতাধীক ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন শহর এবং এলাকায় আম রপ্তানী করা হচ্ছে।
পোরশা উপজেলার সহড়ন্দ গ্রামের আমচাষী হাবিবুর রহমান জানান, এবছর আম মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া ভাল থাকলেও গাছে মুকুল আসার পরই কয়েকবার আকাশের বৃষ্টি হওয়ায় অনেক মুকুল ঝরে গিয়েছিল। এ কারনে এবছর আমের ফলন তুলনামূলক কম। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর বাজারে আমের দাম অনেক ভাল। যে কারনে ফলন কম হলেও, দাম ভাল পেয়ে ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলে জানান তিনি। উপজেলার পাইকারী আম ব্যাবসায়ী সজল মিয়া জানান, তাদের আড়তে প্রতিদিন গুটি, গোপালভোগ ও খিরসাপাত আম বেচা কেনা হচ্ছে। একদিকে এলাকায় আমের ফলন কম, অন্যদিকে মোকামে চাহিদা বেশি থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর আমের দাম অনেক বেশি। পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ জানান, নওগাঁ জেলার অন্যান্য উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ আম চাষ হয় পোরশা উপজেলায়। এবছর এ উপজেলায় ১০হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। পোরশা উপজেলার মাটি আম চাষ করার উপযোগী। মাটি ভাল হওয়ার কারনে এখানকার আম অনেক সুস্বাদু বলেও জানান তিনি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris