মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিবগঞ্জে অধিকার হারা ১১ সাঁওতাল পরিবারের অসহায় জীবনযাপন, সন্তানদের নেই জন্ম সনদ

Paris
Update : শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪

আতিক ইসলাম সিকো, শিবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আদিকাল সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ১১টি পরিবারের প্রায় ৪০ জন সদস্য অত্যন্ত অবহেলায় অসহায় জীবনযাপন করছে। এদের নেই কোন জমি, নেই কোন ঘরবাড়ি ও নেই কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জানা গেছে- অন্যের জমিতে বা খাস জমিতে খড় খুটো দিয়ে ঘর তুলে সে ঘরেই স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে অধাহারে-অনাহারে দিনাদিপাত করছে। তাদের পুর্বের পেশা বিভিন্ন জীবজন্তু শিকার করা এখন আর নেই বললেই চলে। শুধু মাঝে মাঝে কচ্ছপ ও বামুজ শিকার করে। ঘটনাটি শিবগঞ্জ উপজেলা দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চক শ্রীরামপুর গ্রামে। শনিবার সকালে সরজমিনে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় তাদের। ৬৫ বছরের বৃদ্ধা জলোশ^রী রায় বলেন, অনেক দিন আগে স্বামী হারিয়া রায় দ্বিতীয় বিয়ে করে এলাকায় অন্য পাড়ায় বসবাস করছে। তিন ছেলে ও এক প্রতিবন্ধী মেয়ে নিয়ে চকশ্রীরামপুর বান পাড়ায় ডাকরার দাড়া নামক একটি খাড়ির তলায় খড় দিয়ে একটি টিনের ঘরে বাস করছি। মহিলা হয়েও কামলা খেটে ও পাশের আমবাগান পাহাড়া দিয়ে যে আয় হয়, তাই দিয়ে কোন দিন অনাহারে কোন দিন অর্ধাহারে দিনাদিপাত করি। সরকারি সহযোগিতা ঈদের সময় মাঝে মাঝে একটি স্লিপ পাই। ছেলে-মেয়েদের জন্মনিবন্ধন করিনি। একই কথা বললেন, লালবন রায় রানী রায়, মিঠন রায় ও কণিকা রায়। তারা জানান, এখানে চারটি পরিবারের ২০ জন সদস্য এভাবেই বসবাস করি। এটাই আমাদের জীবন। তারা আরো বলেন, এখানে বাস করেও শান্তি পাই না। বর্ষা ও বন্যার সময় দাড়ায় পানির নীচে আমারদের এ ঘরগুলো তলিয়ে গেলে পাশের বাগানে আশ্রয় নিই। অন্যদিকে চক শ্রীরামপুর গ্রামে জবেদ হাজীর জমিতে বহু বছরে ধরে সাঁওতাল সম্প্রায়ের চারটি পরিবার বাস করে। তার মধ্যে ফুচুয়া রায় (৬৫) জানান, চারটি পরিবারের প্রায় ১২ জন সদস্য নিয়ে আমরা এখানে বাস করি। আমাদের নিজের কোন জমি ও বাড়ি ঘর নেই। জবেদ হাজীর জমিতে ছোট ছোট ঘর তুলে বাস করছি। আমরা এখনো কোন সরকারি সহযোগিতা পাই না। শুধু কামলা খেটে দিন চালায়। মাঝে মাঝে জবেদ আলি হাজি অন্যত্রে চলে যেতে বললেও যেতে পারি না। যেহেতু আমাদের জমি কেনার মত কোন টাকা নেই। আর অন্য কেউ আশ্রয় দিচ্ছে না। অন্য একটি পাড়ায় আরো তিনটি পরিবার বাস করে। তাদেরও একই অবস্থা। সরকারের নিকট দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে দাইপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলোমগীর রেজা বলেন, পরিবারগুলো সত্যি অসহায়। তাদের জমিজমা নেই। নেই কোন বাড়ি-ঘর। দ্রুত তাদের সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসাবে তাদের নায্য অধিকার সমাজসেবা অফিসের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। শিগগির তাদের বাসস্থান ও কর্মসংস্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris