মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে কোরবানির জন্য সাড়ে চার লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত

Paris
Update : বুধবার, ৫ জুন, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানি ঈদ। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হয়ে গেছে কোরবানির পশুর হিসাব-নিকাশ। এই ঈদ ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সবেচেয় বড় পশুর হাট খ্যাত ‘সিটি হাট’ এখনো জমে উঠেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাটে পশুর সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতার সংখ্যা কম আসায় এখন পর্যন্ত বেচাকেনা জমেনি। তারা বলছেন, পাড়া-মহল্লা থেকেই অধিকাংশ ক্রেতারা কোরবানির জন্য পশু কিনে নিচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর কোরবানির জন্য চার লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬টি পশু প্র্রস্তুত আছে। এর মধ্যে গরু ৮৩ হাজার ৩৬৫টি, মহিষ ৩ হাজার ৭৬৯টি ও ছাগল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৩টি। প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু আছে। অন্তত ৫০ হাজার উদ্বৃত্ত থাকবে। খামারিরা বলছেন, কোরবানির পশুর দাম এবারও বেশি হবে। কারণ উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় তাদের লাভের পরিমাণ কমবে। তবে কেউ লোকসান দিয়ে বিক্রি করবে না। এখন কিনলে কিছুটা কমে বিক্রি হবে। কোরবানির হাটে তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম না পেলে পশু বিক্রি করবেন না। এ বিষয়ে পবা উপজেলার খামারি তারেক ইসলাম বলেন, আমার খামারে আটটি মহিষ আছে। সাত মাস ধরে মহিষগুলো পালন করছি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গোখাদ্যের দাম বেশি। সঙ্গে অন্যান্য খরচও বেড়েছে। মহিষগুলো দেখতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আসছেন। কিন্তু কাঙ্খিত দাম বলছেন না। আর প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম না পেলে বিক্রি করবো না। আশা করছি, ঈদের পূর্ব মুহূর্তে ভালো দাম পাবো। একই উপজেলার উজ্জ্বল হোসেন বলেন, কোরবানিতে বিক্রির উপযোগী দুটি ষাঁড় আছে। ওজনে সাত-আট মণের বেশি হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দেখতে আসছেন। কিন্তু এখন যে দাম বলছেন, তাতে খরচ উঠবে। এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে দু’একটি করে পোষা গরু আছে জানিয়ে রাজশাহীর গরু ব্যবসায়ী আইনাল হক বলেন, খামারের গরুর চেয়ে বাড়িতে দু’একটি করে পোষা গরুর চাহিদা বেশি। ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ সময় থাকলেও এখন থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তাই পাড়া-মহল্লায় ঘুরে দেখছি। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এবার দামও বেশি। ফলে আগের বছরগুলোর চেয়ে এবার বেশি দামে পশু কিনতে হবে ক্রেতাদের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বড় পশুর হাট ‘সিটি হাট’। ঈদ ঘিরে এই হাটে পশুর সরবরাহ বেড়ে গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। তবে এখনও সেভাবে বেচাকেনা শুরু হয়নি। সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, ‘সপ্তাহে রোববার ও বুধবার হাট বসে। কোরবানির পশু এই হাটে আরো এক মাস আগে থেকে আসতে শুরু করলেও এখনও বেচাকেনা জমে উঠেনি। তবে দু’এক দিনের মধ্যেই ফুলদমে জমে উঠবে বলে আশা করছি। আর হাটের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কালু বলেন, হাটে তো কেনাবেচাই নাই। তারপরেও যতটুকু হচ্ছে লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত জাল টাকা বা কোন জালিয়াতি চক্রের খপ্পরে কেউ পড়েনি। তিনি বলেন, লেনেদেনের জন্য সিটি হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন বসানো ছাড়াও প্রশাসনের কঠোর নজরদারী রয়েছে। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য বলছে, নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চল পশু পালনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই এটি রাজশাহীর একটি অনন্য সাফল্য। বর্তমানে দেশের মধ্যে কোরবানির জন্য সবচেয়ে বেশি পশু রয়েছে রাজশাহীতে। ফলে কোরবানির জন্য চাহিদার চেয়েও উদ্বৃত্ত রয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন বলেন, জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ৫০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এবার যেহেতু উৎপাদন খরচ বেশি, গোখাদ্যের দামও বেড়েছে সেহেতু গতবারের চেয়ে পশুর দাম বেশি হওয়া স্বাভাবিক। তবে দাম অতিরিক্ত হবে না, এটা বলা যায়।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris