মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় অসহায় এক পরিবার, থানা পুলিশ নিশ্চুপ

Paris
Update : সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারা থানাধীন গণিপুর ইউনিয়ন অন্তর্গত কুমানীতলা বাজার এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই পরিবারের তিন জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও মারপিট করে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত সময় ঐ পরিবারের গৃহীনি নাজমা বেগমের শ্লীলতাহানি করাসহ তাকেও মারধর করেছে দুর্বৃত্তরা। আক্রমণকারিরা মারধর, ক্যাশ বাক্স থেকে অর্থ লুটপাট, দোকান ও দেড়শ সিসি’র একটি নতুন মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। আহতরা হলেন, গঙ্গানারায়নপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তার, স্ত্রী নাজমা বেগম ও তাদের দুই ছেলে নাইমুর রহমান দূর্জয় ও শাহরিয়ার নাজিম সবুজ। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বড় ছেলে দূর্জয়ের মাথায় পড়েছে বারোটি সেলাই। আর ছোট ছেলে সবুজের বাম চোখের উপরের অংশের পড়েছে চারটি সেলাই। ভুক্তভোগীরা রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ০৮-০৪-২৪ ইং তারিখে আটজন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে বাগমারা থানায় একটি মামলা করেন নাজমা বেগম। যার মামলা নং: ২১। মামলার আসামীরা হলেন, কাওসার আলীর ছেলে খোরশেদ আলী, সুমন, মামুনুর রশীদ ও মোরশেদ, মৃত হামিদ প্রাং এর ছেলে রুবেল, আনছার আলীর ছেলে রতন, মৃত ইসহাকের ছেলে হিটলারও বদিউজ্জামান বদি। আসামীদের সকলের বাড়ি গঙ্গানারায়নপুর গ্রামে। ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, থানায় মামলা হবার পরেও থানা পুলিশ অভিযুক্তদেরকে গ্রেফতার করেনি। উপরন্তু মাঝেমধ্যেই অভিযুক্তরা থানায় গিয়ে গল্পগুজব করতো। অবশেষে আসামীরা বিজ্ঞ আদালত থেকে অগ্রীম জামিন নিয়েছে।

Exif_JPEG_420

ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও বাশ লাঠি দিয়ে একই পরিবারের চারজন সদস্যকে অমানবিকভাবে মারধর ও গুরুত্বর আহত করার পরেও শান্ত থাকেননি দুর্বৃত্তরা। মামলা তুলে নেবার হুকমি ধামকি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কুমানীতলা বাজার এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের দুটো পানের বরজ ঘাস মারার বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। কুমানীতলা বাজার এলাকায় ভুক্তভোগীদের কয়েকটি দোকানঘর ভাংচুর করে দোকানগুলোতে তালা দিয়েছে। দুর্বৃত্তদের হুকমি ধামকিতে ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে সবুজসহ অন্যান্য ব্যবসায়িরাও দোকানঘর খুলে ব্যবসা করতে পারছেনা বলে জানান নাজমা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা। নাজমা বেগম আরো জানান, আসামীরা এই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। সার্বক্ষণিক ভয়ভীতি আর প্রাণনাশের হুমকি ধামকির কারণে আমার স্বামী আব্দুল সাত্তার, বড় ছেলে দূর্জয় ও ছোট ছেলে সবুজ প্রাণভয়ে আত্মগোপনে আছে। আমাদের ভাড়া দেয়া দোকানগুলো যারা নিয়েছে তারা ভয়ে দোকান খুলে ব্যবসা করতে পারছে না। ঘটনার কয়েকদিন পরে দোকান খুলতে গেলে অভিযুক্তরা তাদেরকে দোকান খুলতে দেয়নি। আজ অবদি সবগুলো দোকানই বন্ধ আছে। দোকান খুলতে বারবার বাধা দেবার কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বাগমারা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও থানা অভিযোগ নেয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে গিয়ে বিনষ্ট হওয়া দুটো পান বরজ ও তালাবদ্ধ মার্কেটের পাঁচটি দোকানের সত্যতা পায় প্রতিবেদক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তরা এমপি আবুল কালাম আজাদের পক্ষের লোকজন। তারা এমপি’র ক্ষমতার ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রামে প্রায়শই অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত থাকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার দাস বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দোকানঘরে ব্যবসায়িদেরকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কোন প্রকার অভিযোগ থানায় দেয়নি বলেই আমি জানি। মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেবার জন্য বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকারকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris