মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যে কারণে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল ঘোষণায় দেরি

Paris
Update : শুক্রবার, ৩ মে, ২০২৪

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড আইসিসিকে জানানোর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ১৫ জনের দল আইসিসিতে পাঠিয়ে দিয়েছে বিসিবি। কিন্তু বাংলাদেশে সেই দল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এই দল ঘোষণা করা হবে নাকি একদম চূড়ান্ত দলই প্রকাশ করা হবে, সেই টানাপোড়েন এখনও চলছে। ‘চূড়ান্ত’ দলের ব্যাপারটি অনেকেই জানেন। যারা জানেন না, তাদের মনে খটকা লাগতে পারে। ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের দল দেওয়ার শেষ দিন ছিল গত ১ মে। তবে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত কোনো কারণ দেখানো ছাড়াই দলে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন আনা যাবে। বাংলাদেশ এই সুযোগটিই নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা করেনি। শুধু বাংলাদেশই অবশ্য নয়, আইসিসিতে স্কোয়াড জমা দিলেও বিশ্বকাপের ২০ দলের ১১টিই এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করেনি। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজও আছে এই তালিকায়। বোঝা যাচ্ছে, বাড়তি সময়টুকুর সুবিধা বেশির ভাগ দলই নিয়েছে। তবে ক্রিকেট বিশ্বের শীর্ষ শক্তি যাদেরকে মনে করা হয়, যে দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড পেশাদার হিসেবে মোটাদাগে অনুকরণীয়, সেই অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, এমনকি নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে দল। বাড়তি সময়টুকুর ভাবনা নিশ্চয়ই তাদেরও আছে। ইংল্যান্ড যেমন দল ঘোষণার সময়ই জানিয়ে দিয়েছে, এটি তাদের ‘প্রোভিশনাল’ স্কোয়াড। এটিই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত স্কোয়াড হয়ে যেতে পারে, পরিবর্তনও টুকটাক আসতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলিও দল ঘোষণার সময় জানিয়ে রেখেছেন, সুযোগ যেহেতু আছে, প্রয়োজন মনে করে দলে পরিবর্তন তারা আনবেন। বাংলাদেশও এই পথ বেছে নিতে পারত কি না, প্রশ্নটি যৌক্তিকভাবেই উঠছে। দায়িত্ব নিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে এখনও পর্যন্ত রাজি নয় বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি। দল ঘোষণার দেরি করার পেছনে যৌক্তিক কারণ আছে তাদেরও। তবে সরাসরি তা বলতে চাচ্ছেন না কেউই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালক কারণটি ব্যাখ্যা করলেন। “যে দলটা আমরা পাঠিয়েছি, সেটাতে পরে পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচক ও কোচের কথা হচ্ছে, আমাদের কিছু ইস্যু আছে, বিশেষ করে ইনজুরি নিয়ে। তাদের কথা হচ্ছে, খেলার পরে (জিম্বাবুয়ে সিরিজ) সুবিধাজনক সময়ে আমরা একেবারে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করব।” সেই চোট সমস্যা বা ‘ইস্যুগুলোও’ খুব গোপনীয় কিছু নয়। চোট থেকে ফিট হয়ে ওঠার লড়াইয়ে আছেন সৌম্য সরকার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়নি এই কারণেই। খেলার মতো অবস্থায় আসতে পারলে শেষ দুই ম্যাচে তাকে মাঠে নামিয়ে দেখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক কমিটি। সৌম্যর কারণেই দল ঘোষণায় দেরি কি না, এই প্রশ্ন উঠতেই সেই বোর্ড পরিচালক বললেন, “কারও নাম বলতে চাই না। শুধু সৌম্যরই নয়, আরও দু-একজনের ছোটখাটো ইস্যু আছে।” ‘ইস্যু’ বলতে এখানে মূলত পরখ করে দেখার ব্যাপার। দেড় বছর পর দলে ফেরানো হয়েছে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে। চোটজর্জর ক্যারিয়ারে আরেকটি নতুন শুরুতে সাইফ কেমন করেন, ম্যাচে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন, তার শরীরী কীভাবে সাড়া দেয়, এই ব্যাপারগুলি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে দেখতে চান কোচিং স্টাফ, নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই। এছাড়াও তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, আফিফ হোসেনরা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে কেমন করেন, সেটির প্রভাবও থাকতে পারে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের জন্য যে দল ঘোষণা করা হয়েছে, সেখান থেকে বিশ্বকাপ দলে দুটি পরিবর্তন অবধারিতই। সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান নিশ্চিতভাবেই ঢুকবেন দলে। আরও পরিবর্তন প্রয়োজন কি না, সেই উত্তরই মূলত খোঁজা হবে জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে সাইফ উদ্দিনের ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে চোখ থাকবে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের। ছবি: বিসিবি। সেক্ষেত্রে দল ঘোষণা করার সময় ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো করে বলে দিলেই হতো যে, প্রয়োজন পড়লে দলে পরিবর্তন আনা হতে পারে! আগেও বেশির ভাগ সময় আইসিসিতে জমা দেওয়ার শেষ দিনের মধ্যে দল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিয়েছে বিসিবি। সেই দলে পরে পরিবর্তন আনতে গিয়ে কিছু বিতর্কও হয়েছে কখনও কখনও। সেই বিতর্ক এড়াতেই কি এবার চূড়ান্ত দল একবারে ঘোষণা করতে চায় বোর্ড? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই পরিচালক অবশ্য ভাবনার উড়িয়ে দিলেন। “বিতর্ক আমরা বুঝি না। এটা আপনারা (সংবাদমাধ্যম) বললে বলতে পারেন। দল দিতে দেরি করে বা লুকিয়ে রেখে তো এখানে কারও কোনো ফায়দা নেই। দলের স্বার্থে, সবার ভালোর জন্যই সময় নেওয়া হচ্ছে। আর কিছু নয়। ইনজুরির ব্যাপার যেহেতু, কোচ ও নির্বাচকদের ভাবনা হলো, সময় যখন আছে, আমরা আরেকটু অপেক্ষা করতেই পারি।” দল ঘোষণা করা না হলেও বোর্ডের বিভিন্ন সূত্র ধরে আইসিসিতে পাঠানো ১৫ জনের নাম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চলেই আসছে। এতেই বরং বিতর্কের অবকাশ থাকে আরও বেশি। বিভিন্ন সূত্র থেকে নানা কিছু জানা যায়। এতে অনেক প্রেক্ষাপটই থাকে অস্পষ্ট কিংবা অস্বচ্ছ। আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার বার্তা দিলে বিতর্ক ডালপালা মেলার সুযোগ পায় না। নির্বাচকরাও এটা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে নারাজ। তাদের কাজ দল নির্বাচন করা, সেটি তারা করেছেন। দল ঘোষণার সিদ্ধান্ত বোর্ডের। নানাজনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাচকরাও একটু অস্বস্তিতে আছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে যে মনোভাব বোঝা গেছে, তাতে দল ঘোষণা নিয়ে ‘লুকোচুরি’ চান না তারাও। ‘প্রয়োজন মনে করলে পরে দলে পরিবর্তন আনা হবে’- পরিষ্কারভাবে এই বার্তা দিয়ে দল ঘোষণা করে দেওয়ায় বিতর্কের কিছু তারা দেখেন না। আপাতত এই অবস্থায়ই আছে দল ঘোষণার ব্যাপারটি। সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পরই হয়তো জানা যাবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ অভিযাত্রীর নাম। আগামী ৭ জুন ডালাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। পরের ম্যাচ ১০ জুন নিউ ইয়র্কে। পরের দুই ম্যাচে সেন্ট ভিনসেন্টে ১৩ জুন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, ১৬ জুন নেপাল।-এফএনএস


আরোও অন্যান্য খবর
Paris