মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিস্তার হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ বেড়েছে শীতের তীব্রতাও

Paris
Update : শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৪

এফএনএস
দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার হয়েছে। এ ছাড়া বেড়েছে তীব্রতাও, যা অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল শনিবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশার কারণে দেখা নেই সূর্যের উজ্জ্বল কিরণের, সঙ্গে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে বেড়েছে শীতের অনুভূতিও। বর্তমানে দেশের পাঁচটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগেরদিন যা চার জেলায় ছিল। আবার গত শুক্রবার তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকলেও তা নিচে নেমে ৮ ডিগ্রির ঘরে চলে এসেছে। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, ভোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সৈয়দপুরে ৯ ডিগ্রি, তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি, বদলগাছীতে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকার তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমে থার্মোমিটারের পারদ নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া অফিস বলছে, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আজ রোববার সকাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে প্লেন চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এদিকে রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। আগামী দুদিনে আবহাওয়ার তেমন পরিবর্তন নেই। সোমবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে পরের দিন ফের কমার আভাস রয়েছে।
দিনাজপুর: দিনাজপুরে ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে তাপমাত্রা। সঙ্গে যোগ হওয়া হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশা শীতের তীব্রতায় যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো অবস্থা। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির মতো শীত পড়ছে। সারাদিন অপেক্ষার পর দুপুরেও ঠিকমতো দেখা মিলছে না সূর্যের। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে দিনাজপুরের ওপর দিয়ে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ জেলার বাসিন্দাদের জনজীবন। গতকাল শনিবার দিনাজপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এই মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শীতের এমন শীতলতায় খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্টের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। শীত নিবারণের জন্য পুরাতন মোটা কাপড়ের দোকানে ছুটছেন সাধারণ মানুষেরা। শহরের হকার্স মার্কেট, বউ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতের পুরাতন জামা কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন তারা। কথা হলে নৈশ প্রহরী আবদুল খালেক বলেন, মার্কেটে পাহারা দিতে হয় সারারাত ধরে। যে বাতাস তাতে তো ঘরের মধ্যেই শীত লাগে। বাইরে থাকাটা অনেক কষ্টের। যে কাপড় আছে তাতে শীত মানে না। একটু পুরাতন জামা কাপড়ের দোকানে আসছি যদি কম দামে কাপড় পাই। এদিকে গ্রামাঞ্চলে শীতের মাত্রা যেন প্রভাব ফেলেছে গৃহপালিত পশুর ওপরেও। গরু কিংবা ছাগলকে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষায় পরানো হচ্ছে চটের বস্তা বা পুরাতন জামা কাপড়। কথা হলে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ী গ্রামের আক্তারুজ্জামান বলেন, কয়েকটা ছাগল পালন করি। আমাদের যেমন শীত লাগলে বলতে পারি, অবলা জীবজন্তু তো বলতে পারে না। ঠান্ডা লাগলে অসুস্থ হবেই সেটা মানুষ হোক বা পশু। তাই ছাগলগুলোকে চটের বস্তা পরিয়ে দিছি। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৯ জানুয়ারি দিনাজপুরে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১০ জানুয়ারি ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি, ১১ জানুয়ারি ১১ ডিগ্রি এবং ১২ জানুয়ারি ১০ ডিগ্রি এবং ১৩ জানুয়ারি মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়া সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। যা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তারপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে।
নওগাঁ: পৌষের শেষ দিকে এসে নওগাঁয় বেড়েছে শীতের দাপট। কুয়াশার সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল হাওয়া। শীতের এমন দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন। ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। কমে গেছে আয়-রোজগারও। গতকাল শনিবার ভোর ৬টায় নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিস জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ জেলায় ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এ ছাড়া জেলায় এ মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল গতকাল শনিবার। জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকেই নওগাঁয় তাপমাত্রা থাকছে ১০ ডিগ্রির ঘরে। সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশা আর দিনভর হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের দাপট। সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে পথঘাট। দিনভর দেখা মিলছে না সূর্যের। সারাদিন অল্প সময়ের জন্য একটু সূর্য মামার দেখা পাওয়া গেলেও তাতে থাকছে না কোনো উত্তাপ। এতে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বেশি বিপাকে পড়েছেন বয়স্করা ও ছিন্নমূল খেটে খাওয়া মানুষ। কমে গেছে আয়-রোজগারও। আবার অনেকেই পথের পাশেই খড়কুটো জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে হেডলাইট জ¦ালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকার কৃষক নাহারুল ইসলাম বলেন, শীতের পোশাক খুলতেই দুপুর ১২টা বেজে যাচ্ছে। মাঠের কাজ করবো কখন। সদর উপজেলার শৈলগাছী থেকে শহরের মুক্তির মোড়ে কাজের খোঁজে আসছেন ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, এ কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় কাজে যাওয়া যে কী কষ্টকর তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। সংসার চালাতে তারপরও কষ্ট করে বের হতে হয়। মুক্তির মোড়ে বসে থাকা রিকশাচালক এনামুল হক বলেন, যতই ঠাণ্ডা পড়ুক রিকশা নিয়ে বের না হলে পেটে ভাত জুটবে না। তাই এ শীতের মধ্যেও সকাল ৭টার দিকে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। এত ঠাণ্ডায় ঘর থেকে মানুষ বের হতে চায় না। ভাড়াও কমে গেছে। তাই খুব কষ্টে আছি। আরও দুই রিকশাচালক কালাম ও গফুর বলেন, এত বেশি শীত যে গরম কাপড় পরেও শীত মানছে না। হাত-পা বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। রাস্তায় চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে। রিকশা নিয়ে বসে আছি। ভাড়াও নেই। আয়ও কমে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুর বলেন, ভোর ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই এ মৌসুমে নওগাঁর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ জেলায় ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় কয়েকদিন ধরেই শীত জেঁকে বসেছে। আরও দুই-তিনদিন তাপমাত্রা এমন থাকবে বলে জানান তিনি।
রাজশাহী : পৌষের শেষে রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। গেল দুদিন থেকে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ি দিয়ে আছে গোটা রাজশাহী। কমছে দিনের তাপমাত্রা। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় হাত-পা জমে যাওয়ার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার সকাল ৭টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এর আগে গত শুক্রবার ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আরও কমল এক দিনেই। বৃহস্পতিবার ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এভাবেই দ্রুত কমছে রাজশাহীর তাপমাত্রা। আর এভাবেই শীতল থেকে শীতলতম হচ্ছে এখনকার আবহাওয়া। সাধারণত দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রিতে নামেলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এ ছাড়া ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাই গতকাল শনিবার থেকে রাজশাহী অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলো বলে জানিয়েছে- আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরুর পর ভোর থেকে কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে রাজশাহী। এর সঙ্গে বয়ে চলেছে উত্তরের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। এতে কাবু হয়ে পড়েছে পথে-প্রান্তরে থাকা ছিন্নমূল মানুষগুলো। দুদিন থেকে সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় রোদের উত্তাপ পায় নি এই শীতার্ত মানুষগুলো। দিনভর কুয়াশা ঢাকা প্রকৃতি পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই আবারও অসহনীয় হয়ে উঠছে শীতের দাপট। শহর-নগরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এখন শীতের কাঁপুনি বেশি অনুভূত হচ্ছে। গ্রামের মানুষের জন্য এই শীতের তীব্রতা বয়ে এনেছে বাড়তি কষ্ট ও দুর্ভোগ। হিমেল বাতাস আর তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকাল থেকেই খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষগুলো পড়েন বিপাকে। হঠাৎ করে আবারও শীতের প্রকোপ বাড়ায় কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীত যতই বাড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা ততই বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করাই অন্যান্যের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক নাসিমুল ইসলাম লুৎফর জানান, এখন শীতজনিত কারণে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যে নবজাতক শিশুরাই বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বয়সের শিশু ও বয়স্করাও শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সেবা নিতে আসছেন। তাই চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে আরও দু-তিন দিন রাজশাহীসহ সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। ফলে নতুন করে উত্তরাঞ্চলের আরও কিছু এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাজীব খান বলেন, গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সাঙ্গে দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে শীতের প্রকোপও কমে আসবে। তবে এর আগে সকাল-সন্ধ্যা ও রাতে ঘন কুয়াশার প্রভাব থাকবে পুরো অঞ্চলে।
খুলনা: তীব্র শীতে জবুথবু খুলনাঞ্চলের বিভিন্ন জনপথ। কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশাতে সবকিছু জড়সড় হয়ে গেছে। সূর্যটাও যেন দেরি করে উঠছে। আলোতে যেন কোনো তেজ নেই। এতে মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। হঠ্যাৎ করে গত শুক্রবার রাতের তীব্র শীত মানুষের জন্য চরম অসস্তি-ভোগান্তি নিয়ে আসে। কেননা, এর আগে এ বছর এত মাত্রার শীত পড়েনি এ অঞ্চলে। এই শীতে অনেকটাই বিপর্যস্ত জনজীবন, বেশি ভুগছে বয়স্ক ও শিশুরা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় দিন-মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ নাকাল হয়ে পড়েছেন। কুয়াশার চাদর ভেদ করে দেরিতে সূর্য উদিত হলেও কমছে না শীতের প্রকোপ। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকে খড়কুটো জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে উষ্ণতার জন্য গরম কাপড়ের কদর বেড়েছে। ভিড় দেখা গেছে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষের শীতজনিত নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলোয় অসুস্থ রোগীর ভিড় বাড়ছে। গতকাল শনিবার সকালে খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সরকারি আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, খুলনায় শনিবারের তাপমাত্রা ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ বছরে খুলনাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ রকম তাপমাত্রা আরও ২-৩ দিন থাকবে। ১৫ জানুয়ারির পর তাপমাত্রা একটু বাড়বে। তবে ২০ জানুয়ারি পর আবার তাপমাত্রা কমবে। গতকাল শনিবার খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই তীব্র শীতে রূপ বেড়েছে গ্রাম বাংলার। শীত সরিষা ক্ষেত গ্রামবাংলাকে আরো বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। রস বাড়ছে খেজুর গাছে। কেউ কেউ শীতে গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris