মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শীতে জবুথবু দেশ

Paris
Update : শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৪

এফএনএস : শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। কনকনে শীতে জবুথবু প্রায় সারাদেশের মানুষ। এরইমধ্যে চার জেলায় বইতে শুরু করেছে শৈত্যপ্রবাহ। এটি আরও কয়েক জেলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ১৯ অঞ্চলের তাপমাত্রা নেমে গেছে ১২ ডিগ্রির নিচে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় শীতের তীব্রতা এতদিন না থাকলেও হুট করে তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমে গেছে। তাতে বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা। সারাদেশেই রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলিতে এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৬, যা গত বৃহস্পতিবার ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ঢাকায় গতকাল শুক্রবার তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৯, যা গত বৃহস্পতিবার ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি। এদিকে ১২ ডিগ্রি তাপমাত্রার নিচে থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে আছে- পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯ দশমিক ৮, দিনাজপুরে ১০, রাজশাহীতে ১০ দশমিক ৫, রাজশাহীর বদলগাছিতে ১০ দশমিক ৭, যশোর, সীতাকুণ্ড ও মাদারীপুরে ১১, খেপুপাড়া, কুমারখালি ও সৈয়দপুরে ১১ দশমিক ৩, বগুড়া ১১ দশমিক ৪, বরিশালে ১১ দশমিক ৫, টাঙ্গাইলে ১১ দশমিক ৮, তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৯, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুরে ১১ দশমিক ২, কুমিল্লা ও গোপালগঞ্জে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল থেকে রাজধানী কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কাটতে শুরু করেছে কুয়াশার আবরণ। দেশের অন্য এলাকার অবস্থাও একই। শুক্রবারের তাপমাত্রা এই মৌসুমে দেশের প্রায় এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, শনিবার শীতের এই তীব্রতা কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে ঘন কুয়াশা খুব একটা কমবে না। আগামী তিন দিন কুয়াশা এমন থাকতে পারে। এরপর আবার তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতি বার থেকে দেশের কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টির শঙ্কা আছে। এতে শীত আবার বেড়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কিশোরগঞ্জ, পাবনা, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাগুলোর উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। এদিকে হিমালয়কন্যা নামে পরিচিত পঞ্চগড় জেলায় নেই শৈত্যপ্রবাহ। তবে চারদিন ধরে মেঘলা আকাশ ও কুয়াশার কারণে ঠিকমত দেখা মেলেনি সূর্যের। একইসঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে সর্বত্র। গতকাল শুক্রবারসকাল ৯ টায় সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বৃহষ্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক দুই ডিগ্রি। দিনের তাপমাত্রা আরও কমে রেকর্ড করা হয় ১৬ ডিগ্রি। বুধবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে মঙ্গলবার থেকে রাতে ঘনকুয়াশা আর দিনে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে থাকছে। ঠিকমত সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা যেন বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবারও দিনভর সূর্যের দেখা মিললেনি। শিরশির বাতাসে দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের। সকালে কাজে যেতে পারছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ। তেঁতুলিয়া উপজেলার সদরের দর্জিপাড়া এলাকার চা শ্রমিক জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা ভোর থেকে চা বাগানে কাজ করি। আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। ঠান্ডার কারণে হাত পা অবশ হয়ে আসে। ঠিকমত কাজ করতে পারি না। হাত দিয়ে কোন কিছু ধরা যায় না। আঙুলে ব্যাথা করে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ নেই। তবে দিনে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর রাতে ঘনকুয়াশা থাকছে। চারদিন ধরে সূর্যের উত্তাপ নেই কিন্তু বাতাস রয়েছে। কুয়াশার সাথে আট থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে।
অপরদিকে গত দুই সপ্তাহ থেকে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে মেহেরপুরে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিস্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক অফিসের তথ্য মতে, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি থেকে ১৩ ডিগ্রির ভেতরে ওঠানামা করছে। কনকনে শীত থাকায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনজীবনে জবুথবু অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে রোগবালাইও বেড়েছে। শীতজনিত নানা রোগে হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা বেড়েছে। শীত থেকে বাঁচতে বিভিন্নস্থানে অনেককে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে মেহেরপুর। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার কারণে জেলায় যানবাহন চলছে হেডলাইট জ¦ালিয়ে। আবহাওয়ার অধিদপ্তর বলছে, মেহেরপুর জেলায় বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। কিছু কিছু স্থানে কুয়াশা এত ঘন হয়ে জমেছে যে ২০ হাত দূরের জিনিসও দৃশ্যমান হচ্ছে না। শীত ও কুয়াশার এ অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। জেলাতে জানুয়ারির প্রথম থেকেই শীতের দাপট বেড়েছে। শৈত্যপ্রবাহের এ দাপট কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে, ঘন কুয়াশায় ব্যাঘাত ঘটছে জীবনযাত্রায়। জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে হিমশীতল বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ফলে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক বেলা পর্যন্ত। শীতে কাজ না পাওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
অন্যদিকে রাজশাহীতে গতকাল শুক্রবার সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৬টা ৫১ মিনিটে। কিন্তু বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ি দিয়ে ছিল রাজশাহী শহর ও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘন সবুজ প্রকৃতি ধারণ করেছিল ধোঁয়াটে রূপ। এরপর কুয়াশা কেটে গেলেও আকাশে মেঘ থাকায় সূর্যের কিরণ পোঁছাতে পারেনি পদ্মাপাড়ের এ শহরে। এর মধ্য হু হু করে বইছে হিমালয় ছুঁয়ে আসা কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। তাই এ বছর শৈত্যপ্রবাহ শুরুর আগেই কাঁপছে রাজশাহীর মানুষ। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাজীব খান বলেন, গত ৫ জানুয়ারি রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর গতকাল শুক্রবার আবারও তাপমাত্রা নামল। মাত্র একদিনের ব্যবধানে এক লাফে তাপমাত্রার পারদ নেমে এসেছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সাধারণত দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এ ছাড়া ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এর মধ্যে গত ৯ জানুয়ারি রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১০ জানুয়ারি রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ১১ জানুয়ারি ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই আবহাওয়ার সেই হিসেবে রাজশাহীতে এখনও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়নি। এরপরও শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে রাজশাহীতে। শেষ পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে এরইমধ্যে শিশু-কিশোর ও যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাই জবুথবু হয়ে পড়েছেন। এর কারণ কী- জানতে চাইলে রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) কামাল উদ্দিন বলেন, গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরও তা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভব হচ্ছে। এর কারণ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান হঠাৎ করেই কমে গেছ। আর রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভব হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৬ ডিগ্রি। আকাশে রোদ থাকলে এমনটা অনুভূত হত না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার শীত এসেছে দেরিতে। মাত্র কয়েক দিন থেকেই তাপমাত্রা কমছে। আর কেবলই বাড়তে শুরু করেছে শীত। এ জানুয়ারিতে রাজশাহীসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে বলেও জানান এ আবহাওয়া কর্মকর্তা। এদিকে পৌষের শেষ সপ্তাহে রাজশাহীর তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় বাড়ছে শীতের প্রকোপ। ঘন কুয়াশায় এখন প্রায় পুরোদিনই মুড়ে থাকছে এ শহর। দিনভর উত্তরে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে পথে-প্রান্তরে থাকা ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষগুলোকে। খোলা আকাশের নিচে থাকা এ হতদরিদ্র মানুষগুলো শীতে নাকাল হয়ে পড়েছেন। একটু উষ্ণতার খোঁজে পথের পাশে খড়কুটো কুড়িয়ে আগুন জে¦লে ঘিরে বসে থাকছেন তারা। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন পুরোনো শীতবস্ত্রের মার্কেটে। আর সামর্থ্যবানরা দৌড়াচ্ছেন অভিজাত মার্কেট ও শপিংমলে। হালে তাই শীতবস্ত্রের কেনাবেচাও জমে উঠেছে। এ ছাড়া সমাজের দুস্থ মানুষজন একটি কম্বলের জন্য বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণের লম্বা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এরইমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন বস্তি এলাকায় এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। এরপরও একটি বড় অংশ শীতবস্ত্রের বাইরেই থেকে যাচ্ছেন। এ শীতে তারা নিদারুণ কষ্টে দিন-রাত পার করছেন। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অচলবস্তা কাটছে না। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও কর্মজীবী মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শীতের কারণে দিনমজুরদের কাজ কমে গেছে। তাই অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছিল রাজশাহী। এ সময় দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারের নিচে নেমে আসায় রাজশাহীর সড়ক-মহাসড়কের যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ¦ালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। বিকেলে ফের ঘন কুয়াশায় মুড়ে আসে প্রকৃতি। এতে মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও গুটিশুটি হয়ে পড়েছে। শীতের প্রকোপে হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে নবজাতক শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বয়সের শিশু ও বয়স্করাও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সেবা নিতে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ¦র-সর্দি, কাশি ও হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন বলে জানান এ চিকিৎসক।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris