মঙ্গলবার

২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টি হতে পারে আগামী সপ্তাহে

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৪

এফএনএস
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে। একদিন আগে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল নওগাঁর বদলগাছীতে। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল পৌষ মাসের ২৭ তারিখ। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা খুব বেশি কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে আগামী সপ্তাহে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এসময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র এটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলেও জানান তিনি। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় হিমালয়ের একেবারে কাছে হওয়ায় কয়েকগুণ হাড়ে অনুভূত হচ্ছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারপাশ। দৃষ্টিসীমার একেবারে কাছ থেকেও দেখা মিলছে না কোনো কিছুর। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এরই মাঝে আবহাওয়া অফিস বলছে, আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচরণে ঠান্ডার পরিমাণ আরও বাড়বে। আরও ২-৩ দিন ঘন কুয়াশা থাকবে পঞ্চগড় জেলা জুড়ে। সঙ্গে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করবে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, দু-দিন ভোর থেকে সূর্য ঢাকা রয়েছে। হিমেল বাতাস বইছে। বিশেষ করে শীত বেশি লাগার কারণ হচ্ছে বায়ুর গতি বেগ। উত্তর-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, সেটি শীতকালের। বাতাসের গতি বেগ বেশি হলে শীতের তীব্রতাও বেড়ে যায়। সে অনুপাতে এ অঞ্চলে এখন শীতের তীব্রতা বেশি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সকাল ৯টায় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সারা দেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন রেকর্ড করা হয়েছে বাদলগাছিতে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে জেলার পরিবেশ। কুয়াশার কারণে শহর ও গ্রামের সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ¦ালিয়ে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঝরছে হিমশীতল শিশির। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা। ভ্যান চালক, পাথর ও চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে নানান শ্রমজীবী মানুষ। কমে গেছে তাদের দৈনন্দিন রোজগার। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন তারা। প্রয়োজন ছাড়া অনেকে ঘর থেকে বের না হলেও জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বেড়িয়েছেন নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা। তবে বেলা বাড়লেও দু-দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কিছুটা কুয়াশার পরিমাণ কম লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে শীতের কারণে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বয়স্করা। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে অনেকেই বেশি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার নওগাঁয় দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছ। গত বুধবার তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারের চেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কিছুটা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নওগাঁর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত বুধবার ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক দিন যাবৎ প্রতিদিনই নওগাঁর তাপমাত্রা কমছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে এই তাপমাত্রা আগামীতে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এদিকে সন্ধ্যার পর থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত থাকা ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিললেও বিকাল থেকে উত্তরের বয়ে আনা হিমেল হাওয়া সেই তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুরাও শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। তাদের শীতের গরম কাপড় পরিয়ে দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহন আলো জ¦ালিয়ে চলাচল করছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris