রবিবার

৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ পন্থায় চলছে বাদুড়ের শরীরে থাকা ভাইরাসের পরীক্ষা-নিরীক্ষা!

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার
বাদুড় বহু বিপজ্জনক ভাইরাসের বাহন, কিন্তু সেগুলোতে তারা নিজেরা রোগে আক্রান্ত হয়না। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাদুর নিয়ে কোন প্রকার গবেষণা চলাকালে পিপিই পরাসহ সকল প্রকার সাবধানতা অবলম্বন করা অতীব জরুরী। তা নাহলে, যে কোন ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে। শুধু বাদুর নিয়েই নয়, যেকোন রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণামূলক কাজ করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য থেকে জানাগেছে, সকল বাদুড়ই রেভিস জাতীয় রোগের জীবাণু বহন করে, এবং বাদুড়ের সাথে যে কোন ধরণের শারীরিক স্পর্শেই এই রোগ ছড়াতে পারে। বাদুড়ের কামড়ে অন্যান্য রোগ এবং জীবাণু সংক্রমিত হবার সম্ভাবনাও রয়েছে। বাদুড়ের কামড় ছাড়াও নিঃশ্বাসের সাথে বাদুড়ের বিষ্ঠার গুঁড়ো শ্বাসনালীতে প্রবেশ করাটাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বাদুড়ের বিষ্ঠায় এমন কিছু উপাদান আছে যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং রোগ সৃষ্টিকারী। কিন্তু এতো ঝুঁকি থাকার পরেও নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড অন্তর্গত মহলদারপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে একটি দোকানে উন্মুক্ত ভাবেই চলছে বাদুরের শরীরে জীবানু ও ভাইরাস নিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষা। কোন প্রকার নিরাপত্তা বা শতর্কীকরণ বেষ্টনী ছাড়াই চলছে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা নিরীক্ষা বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে সেটির সত্যতাও মেলে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, এবারই প্রথম না, এর আগেও বেশ কয়েকদিন ধরে এমন উন্মুক্তভাবে বাদুর নিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। পাঁচ সদ্যস বিশিষ্ট একটি টিম ঢাকাস্থ ‘রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে রাজশাহী এসেছে বাদুড় সংগ্রহপূর্বক তাদের শরীর থেকে বিষ্ঠা, লালা ও রক্ত সংগ্রহের জন্য। এক প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কাজে নিয়োজিত আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ দায়িত্বরতরা জানান, নীপা ভাইরাস সহ অন্যান্য জীবানু ও ভাইরাস বাদুরের শরীরে আছে কিনা সেটি জানার জন্য জীবিত বাদুড়ের শরীর থেকে রক্তা, লালা ও বিষ্ঠা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোন প্রকার শতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যতীরেকে এভাবে উন্মুক্ত রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি তো জনসাধারণের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। নাকি কোন প্রকার ঝুঁকি নেই প্রশ্নের উত্তওে দায়িত্বরতরা বলেন, প্লিজ আপনি একটু দূরে যান, আমরা যাবার আগে এই দোকানটা স্যানিটাইজ করে যাবো। তাছাড়া আমরা তো এখানে কাউকে আসতে দিচ্ছি না। কিন্তু রাস্তার ধাওে আবাসিক এলাকায় উন্মুক্ত পন্থায় পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর কারণে শিশু-কিশোর ও মহিলারা প্রায়শই মাত্র কয়েক ফিট দূরে দাড়িয়ে থেকে বাধাহীন ভাবেই দেখছে বাদুড় নিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পরীক্ষাগুলো।
রাজশাহী ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আসা একটি টিম নিপা ভাইরাস নিয়ে কাজ করার কথা। তারা যদি শুধুমাত্র বাদুড়ের বিষ্ঠা নিয়ে কাজ করেন তাহলে তেমন কোন ঝুঁকি নেই। আর যদি রাসায়নিক বা ল্যাবরেটরি টেস্ট অসতর্কতাবলম্বন করে তাহলে বিষয়টি আমি খোজ নিয়ে দেখবো। রাসায়নিক টেস্টে নিয়োজিতরা জানান, নওদাপাড়াস্থ বনবিভাগ অফিসের ফরেস্ট থেকে জীবিত বাদুড় সংগ্রহ করে তারা কার্যক্রম চলমান রেখেছে। সর্বমোট ৬০টি বাদুর নিয়ে তারা পরিক্ষা নিরীক্ষা করছেন। কোন প্রকার শতর্ককরণ বেষ্টনী ব্যবহার ব্যতীরেকে কেনো এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে জানতে চাইলে কর্মরতরা প্রতুত্তরে বলেন, আমরা তো মাস্ক ও পিপিই পরিহিতবস্থায় কাজ করছি। যদিওবা সকলের শরীরে পিপিই ছিলনা। স্থানটি ঘিরে সেই সকাল থেকেই শিশু বাচ্চাদের দৌড়ঝাপ থাকে। এছাড়াও এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতি ঘন্টায় যাতায়াত করে হাজারখানেক পথচারি। পরিহিতবস্থায় রাস্তা ঘেষা উন্মুক্ত সেই ছোট্ট দোকান ঘরটিতে ডাক্তারদের এপ্রোন পরিহিত ব্যক্তি, বাদুর ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করার কারণে উৎসুক জনতা ছাড়াও সেটি দেখতে দোকানের সন্নিকটে উপস্থিত হয় শিশু কিশোরসহ মহিলারা। যেটি কিনা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের। এই ধরনের রাসায়নিক পরিক্ষা-নিরিক্ষা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও শতর্কবস্থা ব্যতীরেকেই বেশ কয়েকদিন ধরে চলছে তাদের কার্যক্রম। যেটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ‘ব্যাট ওয়ান-হেলথ’ নামে আন্তর্জাতিক এক প্রকল্পে ঘানার সাথে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার এবং আরও কিছু দেশ কাজ করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এটা খুঁজে দেখা যে কেন প্যাথোজেন বা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব এক প্রজাতির প্রাণী থেকে অন্য প্রজাতির মধ্যে প্রবেশ করে, এবং কীভাবে এই প্রক্রিয়া ঠেকানো যায়। ভবিষ্যতে কোভিডের মত কোনো বড় মহামারী আগেভাগে আঁচ করার উপায় খুঁজতে যে আন্তর্জাতিক একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে ঘানার এই বিজ্ঞানীরা তারই অংশ হিসাবে কাজ করছেন। কিন্তু বাদুড়ের বিষ্ঠা, লালা ও রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে নওদাপাড়া এলাকায় যে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা তিনদিন যাবৎ (দ্বিতীয় পর্বে) চালানো হলো সেটির সাথে ‘ব্যাট ওয়ান-হেলথ’ প্রকল্পের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান সেখানে দায়িত্ব ও কর্মরত আব্দুল্লাহ আল মামুন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris