শনিবার

২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দূর্গাপ্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত শিল্পীরা

Paris
Update : শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসব। আর কিছুদিন পরেই শান্তির বার্তা নিয়ে আসছে দেবী দূর্গা। এ উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আর সেই সাথে শিল্পীরা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে, তাদের অভিজ্ঞ হাতের নিপুণতায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মা দূর্গাকে। তবে, আয়োজকদের প্রত্যাশা জাকজমকপূর্ণ পূজা আয়োজনের। শারদীয় দূর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব। আর এ উৎসবকে ঘিরে তোড়জোড়ের শেষ নেই প্রতিমা ও আলোকসজ্জাসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। প্রতিবছর শরৎ ঋতুতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবার জেলা জুড়ে প্রতিমা তৈরী হচ্ছে ১৫৮টি পূজা মন্ডপে। জেলা শহরের হুজরাপুর মহল্লার গুড়িপাড়া কালিমন্দির, বড় ইন্দারা মোড়ের প্রতাপ চন্দ্র দাস দেবোত্তর দূর্গা মন্দির, শিবতলার চরজোতপ্রতাপ দূর্গামাতা ঠাকুরাণী মন্দির, হুজরাপুর জোড়ামঠ দূর্গা মন্দির, ঝিলিম রোডের কৃচ্চণ ঠাকুর দূর্গা মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আর শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় একটু একটু করে মা সেজে উঠবেন আপন ঐশ্বর্যে। ১৪ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠিকতা। আর ২০ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। তাই হাতে একদমই সময় নেই প্রতিমা কারিগরদের। তারা সকাল থেকে রাত অবধি পরিশ্রম করে চলেছেন। এরপর শিল্পীর নিপুণ হাতের তুলির ছোঁয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে প্রতিমার মূল অবয়ব। গুড়িপাড়া কালিমন্দির কমিটির সভাপতি অপূর্ব সরকার জানান, দূর্গা প্রতিমা তৈরী করতে এবার ৭০ হাজার টাকা মজুরী নিচ্ছেন কারিগররা এবং এ প্রতিমা তৈরীতে মৃৎশিল্পী আশিষ কুমার সিনহা রয়েছে। ঝংকার সংঘ আয়োজিত প্রতিমা তৈরীর শিল্পী আশিষ কুমার সিনহা জানান, এবার ৩টি প্রতিমা তৈরীর কাজ পাওয়া গেছে। এখন এগুলো শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি প্রতিমার আকার ও সাজসজ্জার উপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়। লাবু পাল নামে আরেক শিল্পী জানান, ভিন্ন ভিন্ন চুক্তিতে প্রতিমা তৈরী করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরীতে দম ফেলার ফুরসত সময় নেই। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত আমাদের বাংলাদেশ। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এক সঙ্গে মিলে জেলায় শারদীয় উৎসবের আনন্দ উপভোগ করবো। এবারও জাকজমকপূর্ণভাবে পালন করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি মন্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। আনসার সদস্যদের পাশাপাশি আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের নজরদারি থাকবে। এছাড়াও স্ব স্ব মন্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরো জানান, জেলায় এবার ১৫৮টি মন্ডপে শারদীয় পূজা উদযাপন করা হবে। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ আবুল কালাম সাহিদ জানান, শারদীয় দূর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেজন্য আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা আগাম মাঠে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া, র‌্যাব ও বিশেষ সংস্থার নজরদারিও রয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris