শাহরিয়ার অনতু
বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রাজশাহীতে আসলেই আমার কাছে মনে হয় ‘হোম অব পুলিশ’। রাজশাহীর সারদাতে আমরা পুলিশিং শিখেছি। রাজশাহীকে মনে হয় আপন জায়গা, নিজের কাছের জায়গা ও এখানে আসলে ভালো লাগে। এজন্য আমরা কিছুদিন পরপর ছুটে আসি রাজশাহীতে।’ বুধবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে নগরীর পুলিশ লাইনস্ স্কুল প্রাঙ্গনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সুধী সমাবেশ’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আইজিপি।
সভায় আইজিপি রাজশাহীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি যখন রাজশাহীর সারদাতে ছিলাম তখন সপ্তাহে দু’একদিন করে ঘুরতে আসতাম, তখন রাজশাহীতে যানজট ছিল না। প্রাইভেট কার ছিল তখন দু’একটা। এখন রাজশাহী শহরে বিলাশ-বহুল গাড়ী, বাড়ি, যানজট ও সুসজ্জিত নগরী। এখন এখানে থেকে সরাসরি ঢাকা-কক্সবাজারে যাবার ফ্লাইট আছে, আছে একাধিক বিমান। কিন্তু তখন সৈয়দপুর হয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকা যেতে হতো। এতেই বোঝা যায় মানুষের জীবন-যাত্রার কত উন্নতি হয়েছে, মানুষ কত সুখে আছে’।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে দেশজুড়ে কুড়ে ঘরের সংখ্যা ছিল বেশি, দু’একটি পাকা ঘর দেখা গেছে। আগে লুঙ্গি পরে খালি পায়ে বিদ্যালয়ে যেতো শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আজ অজোপাড়া গাঁয়েও ইউনিফর্ম ও পায়ে জুতা পরে স্কুলে যায় শিক্ষার্থী। এখন গার্ডিয়ানদের ক্রয় ক্ষমতা আছে। আগে কুরবানি ঈদে একবার গরু কাটা হতো তারপর মানুষ গরুর গোস্ত খেতে পারত। কিন্তু এখন সারাবছরই দেশের মানুষ গোস্ত বা প্রোটিনযুক্ত খাবার খাচ্ছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আগে আমাদের দেশকে বলা হতো বটোমলেস বাস্কেট। ২০০ ডলার ছিল আমাদের মাথাপিছু ইনকাম। এখন আমাদের ৩০০০ ডলার মাথাপিছু আয়। এই ইনকাম বেড়েছে দেখে গ্রামে পাকা ঘরের সংখ্যা বেড়েছে, কুড়েঁঘর হারিয়ে গিয়েছে। যদিও কুড়েঁঘর দেখা যায়-সেখানে মানুষ থাকে না, গরু থাকে, লাকড়ি থাকে অথবা রান্নাঘর হিসেবে সেটি ব্যবহৃত হয়।’ ‘রাজশাহী শহরে বিমানের সংখ্যা বেড়েছে, যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। তা এমনি এমনিই বাড়েনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতাগুনে তা বেড়েছে। দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলের কারণেই এসব উপার্জন সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা আজ উন্নয়নের মহাসড়কে আছি। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। আগামী ২০৪১ সালে আমরা স্বপ্ন দেখছি বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার।’
মাদক নির্মূলের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একটি উন্নত, সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এজন্য পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রশাসন, সাধারণ জনগণ, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক এবং আইন শৃংখলা বাহিনীকে একসাথে কাজ করতে হবে। সকলে মিলে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে, লড়াই করলে মাদককে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হবে।’ অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল খালেক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধ মীর ইকবাল, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল রিয়াজ শাহারিয়ার, জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মহানগর আওয়অমী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, জেলার আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার প্রমূখ।