সরকারের সমাজ সেবা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেক্স ওয়ার্কারদের সংগঠন সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্কের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের ঘোষিত নির্বাচনের সময়সূচি চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি সেটি অবৈধ ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশন গঠনের পর পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মোছা. আলেয়া বেগমের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিটটি দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।

রিটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), উপপরিচালক, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া বেগমকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে- এ সংগঠনের সম্পাদক গঠনতন্ত্রের ২২ ধারা লঙ্ঘন করে গত ৭ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। সেই তফসিল অনুযায়ী ২২ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ তারিখ ঘোষণা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক একা একা করতে পারেন না। সাধারণ সম্পাদকের এ সিদ্ধান্ত সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্কের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংগঠনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে- সংগঠনের কার্যকরি কমিটির মেয়াদ হবে দুই বছর। ৩০ দিন আগে সাধারণ সভা ডেকে উপদেষ্টা কমিটির সম্মতির ভিত্তিতে কমপক্ষে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিশন পরবর্তি নির্বাচনের সার্বিক কাজ হাতে নেবেন দৈনিক রুটিন কাজ করবেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নির্বাচন কার্যক্রম ৩০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে নির্বাচিত কমিটি তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, এ সংগঠনের কাজ শুধু সেক্স নিয়ে নয়। সমাজের অবহেলিত নারীদের নিয়েও কাজ করে তারা। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের নিয়েও কাজ করে। এটি একটি সরকার অনুমোদিত এনজিও। প্রতিবছরই সেক্স ওয়ার্কারদের নিয়ে একটি নির্বাচন হয়। এটি এনজিও প্রতিষ্ঠান। গঠনতন্ত্র আছে এদের। নির্বাচন হয়, নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ ১১ জন কার্যনির্বাহী কমিটি থাকে। কিন্তু এখানে সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া বেগম যোগসাজসে একটি পক্ষ গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছে। কোনো নির্বাচন কমিশন গঠন না করে তারা নিজেরা একটি মনগড়া কমিটি করে নির্বাচন করার পায়তারা করছে। এটি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।