গোদাগাড়ী প্রতিনিধি : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিএনপির প্রায় ২০০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিপ্লবকে ১ নম্বর আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলা তথা নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোদাগাড়ী মডেল থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) রাতে এ মামলাটি করেন। মামলায় ঘটনার সময় উল্লেখ করা হয়েছে ১৬ নভেম্বর (বুধবার) রাত ৯টা ১০ মিনিট। এজাহারে পৗর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিপ্লবসহ অন্য আসামিরা হলেন, পৌর এলাকার বুজরুকরাজারামপুর গ্রামের মৃত এলতাস আলীর ছেলে নাফিউল ইসলাম নাহিদ (৩৫), কেল্লাবারুইপাড়ার আক্কাস আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (৩২), ভগবন্তপুরের মনজুর রহমানের ছেলে সজল (৩৩) ও বারুইপাড়ার বরজাহান আলীর ছেলে নুর আলম (৩৮)। তারা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বুধবার রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে আসামিরা পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আগামী ৩ নভেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলন, বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার কর্মকান্ডের মাধ্যমে এলাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরকারী স্থাপনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সরমংলা গ্রামের হেলিপ্যাড মাঠের উত্তর পশ্চিম কোনে গোপনে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধভাবে জমায়েত হন। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে গোদাগাড়ী থানার পরিদর্শক তদন্ত আনোয়ার হোসেন পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশকে দেখামাত্রই বিপ্লবের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের অভিযানিক দলটি হামলাকারীদের পালটা ধাওয়া করলে তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন দিকে পলায়ন করেন। পরে পুলিশ দল ঘটনাস্থল থেকে লাল টেপ মোড়ানো চারটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল, বাঁশের লাঠি, ইট ও পাথর এবং বেশকিছু পানির বোতল উদ্ধার করেন। পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে অবগত হয়ে তাদের এই নাশকতার ছক বানচাল করতে সক্ষম হয়েছে।

মামলার বাদী এসআই মিজানুর রহমানের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে কোন কিছু বলতে রাজি হননি। সকল তথ্যর জন্য ওসির সাথে কথা বলতে বলেন। গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, গোদাগাড়ী বিএনপি নেতাকর্মীরা রাতের আঁধারে পৌরসভার হেলিপ্যাড এলাকায় সমবেত হয়ে গোপন সভা করছিল। এই সভা থেকে তারা ওই রাতে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র, সরকারি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে নাশকতার গোপন পরিকল্পনায় লিপ্ত হন। পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে অবগত হয়ে তাদের এই নাশকতার ছক বানচাল করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনার মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে তাদের ধরতে অভিযান অব্যহত আছে বলে জানান।

ঘটনা ও মামলার বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিপ্লব বলেন, পুলিশ মামলায় যে সময়টি উল্লেখ করেছে সেই সময়ে আমরা কেউ সেখানে ছিলাম না। সরকার পুলিশ দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা করে দমন করার চেষ্টা করছে। আমরা যদি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটাতে চাই তাহলে কেনো হেলিপ্যাডের মত নির্জন ফাঁকা মাঠে বিষ্ফোরণ ঘটাবো। ওই সময়টায় পুলিশ দিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের লাইন বন্ধ করে ঘটনার নাটক সাজিয়েছে। আমরা যেখানে অনেক মানুষজন আছে সেখানেই বিষ্ফোরণ ঘটাবো। আর গোদাগাড়ীতে এখনো এমন ধরণের কোন ঘটনার নজির স্থাপন হয়নি।