তানোর প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে এনজিও প্রয়াসের প্রতারণায় আলাউদ্দিন আলী নামের এক সদস্য স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে প্রয়াসের সদস্যরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তানোর পৌর এলাকার বাজে আকচা গ্রামের আলাউদ্দিন আলীর স্ত্রী ফুলকুনি প্রয়াস এনজিওর গ্রাহক। তারা দীর্ঘ দিন ধরে প্রয়াস এনজিওর গ্রাহক হিসেবে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করে আসছেন। সম্প্রতি প্রয়াসের মাঠকর্মী সেলিম নতুন করে তিন লাখ টাকা ঋন দেবার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য ফুলকুনির কাছে থেকে এক সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ঋণ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। অথচ ফুলকুনির স্বামী আলাউদ্দিন নতুন করে তিন লাখ টাকা ঋণ পাবার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধারদেনা করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে এসে মাঠকর্মীর হাতে তুলে দিয়েছেন। কিন্ত্ত টাকা দেয়ার পর নতুন করে ঋণ নিতে গেলে তাকে ঋণ না দেয়ায় পাওনাদারের টাকার শোকে প্রয়াস কার্যালয়েই সে স্ট্রোক করে হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি। এবিষয়ে জানতে চাইলে এনজিও প্রয়াসের ম্যানেজার রেজাউল ইসলাম উল্টো গ্রাহকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঙ্খাপন করে বলেন, আলাউদ্দিন কিস্তির টাকা না দিয়ে স্ট্রোকের অভিনয় করছে। তিনি বলেন, আমরা টাকা দিয়েছে যে কোনো কৌশলে টাকা আদায় করেই ছাড়বো, কোনো গ্রাহক অসুস্থ বা মারা গেলে সেই দায় তো তাদের নয়। এবিষয়ে এরিয়া ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, তাদের লাখ লাখ টাকা মাঠে পড়ে আছে আপনারা (সাংবাদিক) তুলে দেন, এই দায়িত্ব তো কেউ নিবে না। তিনি বলেন, ওরকম দু’এক জন গ্রাহকের কিছু হলে সে দায় তাদের নয়, এনজিও কারো তাবেদারি করে না। আমরা আমাদের আইন অনুযায়ী চলবো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়াস এনজিওর প্রধান কার্যালয় চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে। এখানে কর্মরত সিংহভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি জামায়াত-বিএনপির পক্ষে জনমত গড়তে তারা সদস্যদের বিভিন্ন কৌশলে উদ্বুদ্ধ করে বলেও সদস্যদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে প্রয়াসের কর্মকর্তাগণ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঘটনা তার অজানা, তবে গ্রাহক অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।