নওগাঁর ধামইরহাটে সাধারণ গ্রাহকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না সরকারী নিয়ম নীতি। উল্টো সরকারি এসব নিয়মত-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গ্রাহকদের ঋণের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ফাঁকা চেক, লোন না দিয়ে হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি ধামইরহাট পৌরসভার পরিদর্শনে নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান ঋণ প্রদানের চেক নিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কথা জোরালো ভাবে উচ্চারণ করলেও তা কর্ণপাত করেনটি বেসরকারী সংস্থা টিএমএসএস।এফএনএস

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, পৌর সদরের মঙ্গলকোঠা গ্রামের শ্যামলী রানী পূর্বের ৫০ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করলে ধামইরহাট উপজেলার টিএন্ডটি মোড়স্থ্য টিএমএসএস এর ইসলামি শাখায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের আশ্বাস দেন এনজিও কর্তৃপক্ষ। ঋণ পরিশোধ করলেও তাকে ঋণ না দিয়ে করা হয় হয়রানী। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিন ওই এনজিওতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক সদস্যদের কাছ থেকেই নেওয়া হচ্ছে ব্যাংকের ফাঁকা চেক।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শ্যামলী রানী বলেন, ‘আমার থেকে জনতা ব্যাংকের ফাঁকা ২টি চেক নিয়ে আমাকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে অনেক জায়গায় স্বাক্ষরও নিয়েছে, আর ঋণ দিচ্ছে না, আমার চেকও ফেরত দিচ্ছেনা, যে কারণে আমি অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি, সামনে আমাদের পূজা উৎসবও করতে পারবোনা।’ একই গ্রামের কাজলী মালী এক বছর মেয়াদী ঋণ নিয়ে সাপ্তাহিক ভাবে কিস্তি পরিশোধকালে ৮ কিস্তি পাওনাদার এনজিও, এমতাবস্থায় তাকে প্রলোভন দেখিয়ে একই দিনে ৮ কিস্তি জমা নিয়ে তাকেও ঋণ না দেওয়ায় ভুক্তভোগী কাজলী মালি এখন দিশেহারা। অপর ভুক্তভোগী আড়ানগরের গোকুল গ্রামের রেশমা খাতুন জানান, আমার থেকে ব্যাংকের ফাকা চেকে আমার স্বাক্ষর নিয়ে এখন ঋণ দিতে তালবাহোনা করছে।’

এ বিষয়ে টিএমএসএস এর ইসলামি শাখার ম্যানেজার ও মাঠ কর্মকর্তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখেন। টিএমএসএস আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঋণ না দিয়ে চেক গ্রহণ করে আটকে রাখলে তা ঠিক হয়নি, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’ নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান পিএএ এই বিষয়ে ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগের পরামর্শ প্রদান করে বলেন, ‘কোন ভাবেই গ্রাহকের নিকট থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে চেক গ্রহণ করা যাবে না এটা বিধি সম্মত নয়, এরূপ অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’