স্টাফ রিপোর্টার
সামনের চেয়ারে আসন দখলকে কেন্দ্র করে রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট ঢালান এলাকার ‘লোটাস কমিউনিটি সেন্টারে’ এই মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারিতে উভয় গ্রুপের অন্তত ৩ জন কর্মী আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে ওই কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস.এম জিলানী। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নূসরাত ইলাহি রিজভীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কর্মী সমাবেশ শুরু হওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে কমিউনিটি সেন্টারের অভ্যন্তরে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রবেশ করছিলো। এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি গ্রুপ চেয়ার সামনের সারিতে বসার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। এতে অন্য একটি গ্রুপ বাধা দিলে উভয় গ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে এক গ্রুপের কর্মীরা অন্য গ্রুপের এক কর্মীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ওই কর্মীর ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হয়।

কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই এসময় দলের কর্মীরা একে অপরকে চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস.এম. জিলানী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে কমিউনিটি সেন্টারের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে ও এর আশেপাশের এলাকায় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়। এসময় আরও অন্তত দুইজন আহত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কর্মী সম্মেলন শুরু হয়। এ ব্যাপারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নূসরাত ইলাহি রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি দেশের একটি বৃহৎ সংগঠন। আর বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন হলো স্বেচ্ছাসেবক দল। হাজার হাজার নেতাকর্মী কর্মী সমাবেশে যোগ দেয়। কর্মীদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ শুরু হয়েছে।’

মহানগরীর রাজপাড়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। পরে এটি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রূপ। তবে সেখানে পুলিশের একটি টিম আগে থেকেই অবস্থান করছিলো। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’