ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সাপের কামড়ে দুলাল বারী (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার ফলসি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে তাকে সাপে কাটে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। মারা যাওয়ার ব্যক্তির স্বজন ও প্রতিবেশিরা জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দুলাল বারীকে সাপে কাটে। পরে বিষের যন্ত্রণায় তার ঘুম ভাঙলে স্বজনরা প্রতিবেশি এক ওঝাকে ফোন দেয়। ওঝা মোবাইল ফোনেই ঝাড়ফুঁক দিয়ে সাপের বিষ নেমে গেছে বলে জানিয়ে রোগীকে ভাটির পাতা খাওয়াতে বলেন।

পরে কথিত ওই ওঝার কথামতো স্বজনরা রোগীকে ভাটির পাতা খাওয়ানোর পরও দুলালের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গতকাল বুধবার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সাপে কাটা রোগীদের নিয়ে কাজ করা আব্দুল্লাহ মারুফ নামে একজন জানান, দিন দিন ওঝার অপচিকিৎসায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি গ্রামে গ্রামে মানুষকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

আইন করে দ্রুত এই অপচিকিৎসা বন্ধের দাবি করেন তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জামিনুর রশিদ জানান, সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় দেরি করলে রক্তে বিষ মিশে তা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শরীরের নার্ভ সিস্টেমগুলো অচল হয়ে পড়ে। এতে রোগীর মৃত্যু হয়। অ্যান্টিভেনম ছাড়া সাপে কাটা রোগীর আর কোনো চিকিৎিসা নেই বলেও জানান তিনি। সাপে কাটা রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার কথাও বলেন এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।