স্টাফ রিপোর্টর
চুলার ধারেকাছেও আখ বা আখের রস নেই। আছে চিনি, চুন, ফিটকিরি, ডালডা ও রং। এ দিয়েই তৈরি হচ্ছে গুড়; যার নাম আবার ‘আখের গুড়’। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর এমন উপকরণ দিয়ে গুড় তৈরির দায়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি এলাকায় দুটি কারখানাকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় ৮৫৫ কেজি ভেজাল গুড় নষ্ট করে ফেলা হয় বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ। অধিদপ্তর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আড়ানি এলাকার খর্দো বাউসা ও পাঁচপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলী ও দুলাল উদ্দিন বাদলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ক্ষতিকর উপকরণ দিয়ে গুড় তৈরির দায়ে সেকেন্দার আলীকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগেও একই অপরাধে সেকেন্দারের দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছিল। সে পুনরায় একই অপরাধ করায় আইন অনুযায়ী সাজার মাত্রা দ্বিগুন করে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একই ধরনের উপকরণে গুড় তৈরির দায়ে দুলাল উদ্দিনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের সময় দুলাল উদ্দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে তাকে ডেকে জরিমানা ও সতর্ক করা হয়।

 

আককাস আলী জানান, নওগাঁয় বুধবার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ভেজাল গুড় তৈরি ও অন্যান্য অপরাধে ৪ প্রতিষ্ঠানকে পৌনে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় ও ১২ মন ভেজাল গুড় ধ্বংস করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের নওগাঁর পরিচালক ও র‌্যাব-৫। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার নওগাঁর পরিচালক মো. শামীম হোসেন জানান, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এর অর্পিত ক্ষমতাবলে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের সহযোগিতায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মেসার্স জিল্লুর গুড় ভাণ্ডারের মালিক মো. জিল্লুর রহমানকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সুজি, ময়দা, চিনি এবং চিটা গুড়ের সমন্বয়ে ভেজাল গুড় তৈরির দায়ে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন ও ১২ মন ভেজাল গুড় ধংস করেন। এছাড়া সদর উপজেলার গোস্তহাটি ও ঘোষ পাড়া এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঢাকনা বিহীন পাত্রে মিষ্টি সংরক্ষণ, মিষ্টিতে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি এবং খোলা লবণ ব্যবহারের অপরাধে নওগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ৫০ হাজার টাকা, সাব্বির হোটেলকে ২০ হাজার টাকা ও নিপেন ঘোষ দই ঘরকে ৫ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। ভবিষ্যতে জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।