মচমইল থেকে সংবাদদাতা
বিয়ে হয়েছে প্রায় ২০ বছর আগে। বাল্য বিবাহের শিকার বন্ধ হয়ে যায় আছিয়া বিবির লেখাপড়া। তবে তাঁর ইচ্ছা বন্ধ হয়নি। বিয়ের বিশ বছর পর অষ্টম শ্রেণী পাশ না করেইে ভর্তি হয় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজে। সংসারে তাঁর এক মেয়ে। এরই মধ্যে মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। নির্বাচন করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আছিয়া বিবি। এবারই প্রথম দিচ্ছেন পাবলিক পরীক্ষা। অংশ নিয়েছেন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায়। গতবছর দিয়েছেন নবম শ্রেণীর ফাইনাল। এবার দিচ্ছেন দশম শ্রেণীর ফাইনাল। নিজের ইচ্ছা পূরণে ৩৫ বছর বয়সে বসেছেন এসএসসি পরীক্ষায়।

ওই ইউপি সদস্যের বাড়ি। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কোয়ালীপাড়া গ্রামে। তিনি যোগিপাড়া ইউপির সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। বিয়ের আগে ভটখালী বালিকা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত। পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে গেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন আছিয়া বিবি। তিনি উপজেলার ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজ থেকে এসএসসি (ভক) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সোমবার সকালে চানপাড়া আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ১০৫ নম্বর কক্ষে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী বলেন, আমাদের কেন্দ্রে ভালো ভাবেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি নির্দিষ্ট সময়ে কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিচ্ছেন সবাই। ইউপি সদস্যের কারনে নিয়মিত ক্লাসে না এলেও ভালো ভাবেই পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। পরীক্ষা শেষে আছিয়া বিবির সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি ভালো ভাবেই পরীক্ষা দিচ্ছি। পরীক্ষার আগে থেকে ভালোভাবে লেখাপড়া করেছি। অষ্টম শ্রেণীতে না পড়ার কারনে একটু বেশি সময় দিতে হয়েছে এবারের পরীক্ষায়। আছিয়া বিবি আরো বলেন, আগে থেকেই লেখাপড়ার আগ্রহের কারনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। শিক্ষিত লোকজনের মূল্য সবখানে। তাই দীর্ঘ সময় পর লেখাপড়া শুরু করেছি। এসএসসি পাস করতে পারলে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন আছিয়া বিবি।