মানিকগঞ্জে পাসপোর্ট করতে এসে ধরা পড়েছেন এক রোহিঙ্গা তরুণী। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী ওই তরুণী নাম পাল্টে যাবতীয় কাগজপত্রসহ গতকাল রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পাসপোর্ট অফিসে আসেন। তার সঙ্গে থাকা এক রোহিঙ্গা যুবককেও আটক করা হয়েছে। তারা দুজন সাংবাদিকদের জানান, এক লাখ টাকার চুক্তিতে ওই তরুণী পাসপোর্ট করতে আসেন। মোহাম্মদ সাহেদ নামে স্থানীয় এক দালালকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন। দালালরা তাকে পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছে দিয়ে সটকে পড়েন। সঙ্গে আটক রোহিঙ্গা যুবক ২০০৮ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে চকরিয়ায় বসবাস করছেন। তিনি স্থানীয় একটি হোটেলের কর্মচারী হিসেবে বসবাস করছেন। মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ জানান, গতকাল রোববার দুপুরের দিকে তাসমিন বেগম নামে ওই রোহিঙ্গা তরুণী পাসপোর্ট করতে আসেন। তার মূল নাম এটি নয়।

 

তার নাম আরেকটি। তিনি উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকেন। তিনি মা ও চার বোনসহ ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা হিসেবে বাংলাদেশে আসেন। তিনি আরও জানান, জেলার সিংগাইরের চান্দহর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চর চান্দহর গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে তাসনিমা বেগম পরিচয়ে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন বাদলের পরিচয়পত্র নিয়ে পাসপোর্ট করতে আসেন। তখন যাচাই-বাছাই ও ফিঙার প্রিন্ট নেওয়ার সময় রোহিঙ্গা ডাটাবেজের সঙ্গে মিলে যায়। পরে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ওই তরুণী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতানি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে চান্দহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন বাদল জানান, তার স্বাক্ষর জাল করে একটি চক্র এই অপকর্মটি করেছে।

 

তিনি এই বিষয়ে সিংগাইর থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন। তার স্বাক্ষরযুক্ত যে পরিচয়পত্রটি তৈরি করা হয়েছে সেখানে কোনও স্মারক নম্বর নেই। স্বাক্ষরটিও তার নয়। ওই তরুণী দাবি করেন, ওই যুবকসহ গতকাল রোববার সকালে কক্সবাজার থেকে মানিকগঞ্জে আসেন। তার সঙ্গে স্থানীয় দালালও ছিলেন। তাকে নিয়ে পাসপোর্টের যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেন। ২০২০ সালে মোবাইল ফোনে তোফায়েল হোসেন (৫০) নামে এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি সৌদি যাওয়ার জন্য মানিকগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে আসেন। এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পাসপোর্ট অফিস থেকে এক রোহিঙ্গা তরুণী ও যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে দালালচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০১৯ সালেও এক রোহিঙ্গা নারী পাসপোর্ট করতে এসে ধরা পড়েছিলেন।-এফএনএস