চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির পূর্বে এনটিআরসিএ’র সনদপ্রাপ্ত ইনডেক্সধারী (নিবন্ধিত) শিক্ষকদের জন্য আলাদা বদলির গণবিজ্ঞপ্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। দ্রব্যমূল্য বাড়ায় স্বল্প বেতন দিয়ে পরিবার চালানো ও নিজেরা কর্মস্থলে থেকে জীবন পরিচালনা কঠিন হয়ে যাওয়ায়, বদলির দাবি বাস্তবায়ন চেয়েছেন তারা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিবন্ধিত শিক্ষকদের বদলি চেয়ে ঐক্য পরিষদের মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান।-এফএনএস

মানববন্ধনে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী অবসর কল্যাণ বোর্ডের সচিব শাহজাহান আলম সাজু বলেন, শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি নির্দেশনা দিলেও কেন এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না? তিনি বলেন, সর্বশেষ যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। ফলে আবার কোটা খালি হয়ে গেছে। এতে সরকারের অর্থ ও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। একজন শিক্ষককে সঠিকভাবে পাঠদান করানোর জন্য নিজের এলাকায় বদলি প্রয়োজন।

এসব সমস্যার সমাধান একটাই, শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা। সংগঠনের সভাপতি তন্ময় রায় জয় বলেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এককথায় সরকার তথা রাষ্ট্রের উত্তম ভিত্তি। আর এই শিক্ষা সেক্টরে রয়েছে নানা অসঙ্গতি ও বৈষম্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বলদি প্রথা চালু না থাকা। পৃথিবীর কোথাও কোনো চাকরি নাই যেখানে বদলি নাই। এই বদলি প্রথা না থাকার কারণে প্রায়ই লক্ষাধিক শিক্ষক মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৭০০-৮০০ কিলোমিটার আবার কোথাও ৩০০-৪০০ কিলোমিটার দূরে নিজের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজন রেখে দুজায়গায় দুই সংসার পরিচালনা করছেন এই স্বল্প বেতনের মাধ্যমে। শিক্ষকের বেতন ১২ হাজার ৭০০ টাকা কিন্তু বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে, এই বেতন দিয়ে শিক্ষকদের চলতে খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, স্ত্রী-সন্তান-ভাই-বোন ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকলেও তাদের একবার দেখার মতো সুযোগ হয় না। তাই অবিলম্বে আমরা বদলি ব্যবস্থার বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নিবন্ধিত শিক্ষকরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।