সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা হয়। কিন্তু করোনা ও বন্যার কারণে ২০২২ সালে পেছানো হয় পরীক্ষা। সাত মাস পিছিয়ে পরীক্ষা শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। চলতি বছর পরীক্ষা পেছানো হলেও আগামী বছর এ সময়ের থেকে পরীক্ষা এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে সাধারণ সময়ের থেকে এক মাস পেছানো হতে পারে পরীক্ষা। অর্থাৎ মার্চে এসএসসি পরীক্ষা হতে পারে। এমনটিই জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি। সচিব বলেন, এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও আগামী বছরের পরীক্ষা আরও এগিয়ে নিয়ে আসা হবে।

 

আগে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে শুরু হতো। আমরা সেখানে ফিরে যেতে না পারলেও মার্চে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কেউ যদি এ নিয়ে গুজব ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, সারাদেশে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণে অসুবিধা হয়নি। শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে। সড়কে যানজট ও বৈরী আবহাওয়ার কথা চিন্তা করেই এবার সকাল ১০টার পরীক্ষা ১১টায় নেওয়া হয়েছে। এসময় সচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, আন্তঃবোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকরা।

 

এদিকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় এ পরীক্ষা। ৩ ঘণ্টার পরিবর্তে ২ ঘণ্টা পরীক্ষা হবে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। এরপর ১০-১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে হচ্ছে পরীক্ষা। এতে অংশ নিয়েছে ২৯ হাজার ৫৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা। ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন। প্রতি বছর সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা হয়। কিন্তু করোনার কারণে পেছানো হয় পরীক্ষা। এরপর ১৯ জুন পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সিলেটসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কারণে তা আবারও পিছিয়ে যায়।-এফএনএস