‘হাইকোর্টের রিট উপেক্ষা করে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন’ সংবাদ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ওইসব খবরের সূত্র ধরে গতকাল শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজ অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন। শনিবার দুপুরে মোবাইলে বিষয়টি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন তিনি। তবে, কবে নাগাদ এই নিয়োগ পরীক্ষা আবারও অনুষ্ঠিত হবে তা জানাতে পারেন নি অধ্যক্ষ।

প্রসঙ্গ, রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে অনিয়ম করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। এরপর গোপনে দফায় দফায় নিয়োগবোর্ড বসানোর চেষ্টাও করেন তিনি। কিন্তু দুইবার নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ বাতিলের পর গত ১৩ জুলাই একই পদে আবারো নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও নিেেয়াগ পরীক্ষার বোর্ড বসানোর চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ।

অধ্যক্ষের গঠিত নিয়োগ বোর্ডের বৈধতা চালেঞ্জ করে গত ১লা আগস্ট ২০২২ তারিখে তানোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হক হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার নম্বর (৮৪৩২/২০২২)। ওই রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, রাজশাহী সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও অত্র কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এবং দুইজন সদস্য সহ মোট ১৩ জনকে বিবাদী করা হয়।

মহমান্য হাইকোর্টের রিট উপেক্ষা করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ গতকাল শনিবার বেলা ১১ টায় রাজশাহী সিটি কলেজে নির্ধারণ ও চাকুরী প্রার্থীদের অনুকূলে প্রবেশপত্র ইস্যু করেন কলেজ অধ্যক্ষ। শুধু তাই নয়, অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত ওই প্রবেশপত্র পিয়নের মাধ্যমে ৭ সেপ্টেম্বর চাকুরী প্রার্থীদের প্রদানও করেছেন। যার একাধিক কপি এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

অধ্যক্ষের এমন অনিয়ম-দুর্নীতির নিয়োগ বোর্ড স্থগিত চেয়ে তানোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হক বাদী হয়ে সম্প্রতি (৮ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এর অনুলিপি দেয়া হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে। যার প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার বাধ্য হয়ে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন বলে জানান তিনি।-এফএনএস