কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে পাকিস্তানের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নজিরবিহীন এ দুর্যোগে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫৫ জনে। প্রলয়ঙ্কারী এ বন্যার কারণে দেশটির লাখো মানুষ উঁচু সড়কের পাশে অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ বা মাথা গুজেছে পরিত্যক্ত কোনো ভবনে। আর ঘরবাড়ি ছেড়ে কিছু মানুষ রয়েছে আশ্রয় শিবিরে। মোট বন্যার্তদের মধ্যে এদের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও তারাও প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদেরই একজন ৪৫ বছর বয়সী শ্রমিক বুলাওয়াং। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সিন্ধুর একটি রাস্তার পাশে, প্লাস্টিকের কাগজ বিছিয়ে পরিবারের ১৬ সদস্যকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য যে মৌলিক চাহিদাটুকু দরকার সেটিও পূরণ করতে পারছেন না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বুলাওয়াং হতাশ গলায় বলেন, আমরা ১৬ দিন ধরে এই আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। কিন্তু কেউ আমাদের কাছে আসেনি (সরকারি সহায়তা নিয়ে)। তিনি আরও জানান, রাস্তার এক কিলোমিটার জায়গায় প্রায় ৭০ জন মানুষ তাদের পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছে।

ফলে এখানে একেকজন খুব অল্প জায়গায়ই পাচ্ছেন। বুলাওয়াং বলেন, কিছু লোক নিজেরাই আমাদের জন্য দিনে দুবার রান্না করা খাবার নিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কেউ আমাদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেনি। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে- এবারের বন্যায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বন্যার কারণে দেশটির আনুমানিক এক হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। আর ভয়াবহ এ বন্যার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করা হচ্ছে। দেশটির ২২ কোটি মানুষের অন্তত সোয়া তিন কোটিই এবারের বন্যায় চরম বিপাকে পড়েছেন। জাতিসংঘের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলোর ৬৪ লাখেরও বেশি মানুষের এখনই মানবিক সহায়তা দরকার। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের কাছে ১৬ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে ইসলামাবাদ। তবে ভয়াবহ এ বন্যায় দুর্গতদের জন্য নগদ ৭ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।-এফএনএস