তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রী কলেজে হাইকোর্টের রিট উপেক্ষা করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার জন্য আবারও প্রজ্ঞাপন বা প্রার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি বুধবার থেকে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার পিয়ন মাধ্যমে প্রার্থীদের এসব প্রবেশপত্র প্রদান করেন তিনি।

অধ্যক্ষের এমন অনিয়ম-দূর্নীতির নিয়োগ বোর্ড স্থগিত চেয়ে তানোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হক বাদী হয়ে গত (৮ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করা হয়।

অভিযোগ ও হাইকোর্টে রিটের পিটিশনের কাগজপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকায় অবস্থিত তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রী কলেজ কমিটির সভাপতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জ্যেষ্ঠ ওই দুইপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারী করেন অধ্যক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে উপর মহলের হস্তক্ষেপে গত ৮ এপ্রিল নিয়োগবোর্ড স্থগিত করা হয়। কিন্তু অনিয়ম করে গোপনে কলেজের পকেট কমিটি গঠন করেন অধ্যক্ষ।

এতে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হকের পক্ষে কমিটির বৈধতা চালেঞ্জ করে গত ৩রা আগস্ট অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল গোফরান দুলাল বাদী হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

যার নম্বর- ৮৪৩২/২০২২। পরে গত ৭ আগস্ট শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবর রহমান মিয়া ও কাজী মো. এজারুল আকন্দর দ্বৈত বেঞ্জ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কলেজ কমিটিকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। মহামান্য হাইকোর্টের এমন নির্দেশনাকে অমান্য করে অতিগোপনে কলেজ অধ্যক্ষ বর্তমান সভাপতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জ্যেষ্ঠ ওই দুইপদে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অধ্যক্ষ।

এব্যাপারে রিট দাখিলকারী সাবেক কাউন্সিলর পিয়ারুল হক বলেন, অত্র কলেজ কমিটির সভাপতির ভাতিজা তানোর উপজেলার তালন্দ মহল্লার বাসিন্দা দেবব্রুত মজুমদারের পুত্র দেবরাজ মজুমদারকে ল্যাব সহকারী (পদার্থ বিজ্ঞান) পদে ও কলেজের নির্বাহী সদস্য শিক্ষক আসলাম উদ্দিনের ভাতিজা গোকুল মহল্লার মোসলেম উদ্দিনের পুত্র মোহাম্মদ জনিকে গত ২২ আগস্ট রাজশাহী কলেজে নিয়োগ দেবার বোর্ড প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেন অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার।

এহেন পরিস্থিতিতে কলেজ কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন তিনি। এমন রিট পিটিশনের খবরে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার আবদুল খালেক তাঁর কলেজে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেন।

কাউন্সিলর অভিযোগে আরও জানান, তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বেকায়দায় পড়েন কলেজের অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার। ফলে অতিগোপনে আবারও জ্যেষ্ঠ ওই দুইপদে নিয়োগ প্রদানে রাজশাহী সিটি কলেজ স্থান বেছে নিয়ে আজ শনিবার সকাল ১১ টায় নিয়োগ নির্বাচনী পরিক্ষায় অংশগ্রহণে প্রজ্ঞাপন জারী করেন অধ্যক্ষ। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি ছাড়া কোন অবস্থায় নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণে প্রজ্ঞাপন জারী করতে পারেন না অধ্যক্ষ। এটা বিজ্ঞ আদালত অমান্য করার সামিল বলে জানান পিয়ারুল হক।

এসুযোগে অধ্যক্ষের মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও বেশ কিছু চাকুরি প্রত্যাশী প্রার্থী আবেদন করেছেন বলে কলেজ সূত্র জানা গেছে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার বলেন, মহামান্য হাইকোর্টে খোঁজ-খবর নিয়ে নিয়োগ নির্বাচনী পরিক্ষার প্রজ্ঞাপন আবারও জারী করা হয়েছে। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রার্থীদের নির্বাচনী পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।