নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিকের বিরুদ্ধে মার্ক টেম্পারিং ও যৌন হয়রানিসহ ১৬টি অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর এবং শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান বিপ্লব মল্লিক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ১৮ শিক্ষার্থী। এতে মোট ১৬টি বিষয় উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। -এফএনএস

যার মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কোনও কারণ ছাড়াই বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভয়ভীতি (পরীক্ষার ফলাফলের) প্রদর্শনের মাধ্যমে তার নিজস্ব অফিস কক্ষে বসিয়ে রাখতে বাধ্য করা, অনলাইন পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে ছাত্রীদের অশালীন প্রশ্ন করা, নিজের পছন্দের শিক্ষার্থীকে দিয়ে একই ব্যাচের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল রেজাল্ট শিটে লিপিবদ্ধ করা, শ্রেণিকক্ষে থাকার থেকে শিক্ষকদের রুমে থাকলে সিজিপিএ ভালো করা যায়Ñএ ধরনের বিভিন্ন কথা বলা, মার্কস বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে অশালীন ও অনৈতিক ইঙ্গিত প্রদান করা, পরীক্ষা চলাকালীন পছন্দের শিক্ষার্থীদের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে ও শ্রেণিকক্ষে সরাসরি হুমকি প্রদান করা এবং অপমান, অপদস্ত, লাঞ্ছিত করা, ক্লাস টেস্ট ও ব্যবহারিক পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ে পক্ষপাতিত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে পছন্দের শিক্ষার্থীদের বেশি নম্বর প্রদান করা, পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করে তখনই ফলাফল প্রদান এবং ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করে থাকেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের প্রথম ব্যাচের ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিভাগের কম বেশি সব মেয়ে স্যারের হেনস্তার শিকার। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্রী শিক্ষক দ্বারা হেনেস্তার শিকার হবে এটা কাম্য নয়। বিভাগের ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, মার্ক টেম্পারিং ও ছাত্রীদের অশালীন ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয় অনেক আগের হলেও এটি এখন মাত্রা ছড়িয়ে গেছে। আমরা আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমরা চাই উনাকে যেন বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক মুশফিকুর রহমান আশিক বলেন, এসব কোনও ঘটনা ঘটেনি। আপনারা বিভাগের অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। কেউ আমার বিরুদ্ধে লেগে এগুলো করছে। এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান বিপ্লব মল্লিক বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের বিভাগের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করবো। প্রক্টর ও শিক্ষা বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, আমাদের কাছে একটি অভিযোগপত্র এসেছে। এটি খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা উপাচার্য স্যারের সাথে বসে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই করে দেখবো। অভিযোগ প্রমাণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।