প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘১৫ই আগস্ট জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্র ও সহায়তাকারী জিয়াসহ অন্যদের খুঁজতে তদন্ত কমিশন চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক এর সভাপতিত্বে এবং আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শ্রী পবিত্র সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান, পরিবেশ বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, কথা সাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সুদীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রজ্ঞা, মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানুষকে মনে রাখার যে স্মরণশক্তি, তা কিংবদন্তীতুল্য। যে মানুষটি সারাজীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভুলে গিয়ে বাঙালিকে তার হাজার বছরের স্বপ্ন স্বাধীন ভূখন্ড উপহার দিলেন। সেই বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় কী এমন ঘটলো, যে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র স্লোগান দিয়ে দল গঠন করার প্রয়োজন হলো। কারা ছিলেন পেছনে? কারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করলো-এসব খুঁজে বের করতে হবে। এসব ইতিহাস জানতে হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ভাড়াটিয়া। রশিদ, হুদারা স্রেফ ভাড়াটিয়া খুনি। মাস্টারমাইন্ড পরাশক্তি, বিদেশি শক্তি বাদ দিলে জিয়াউর রহমান এক নম্বর। তার উচ্চাভিলাষ প্রমাণিত হয়েছিল, যখন কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে নিজের নাম দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়া শুরু করেছিল। পরে যখন বলা হলো, আপনাকে কে চিনে, আপনি ঘোষণা দেয়ার কে? তখন বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে ঘোষণা দিলো।’

আলোচনা সভায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন নিহত হয়ে সিড়ির উপর পড়ে আছেন। তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে জিয়াউর রহমান তার বাড়ির বাথরুমে ভোর সাড়ে ৪টা/৫টার দিকে উঠে লাইট জ্বালিয়ে সেভ করছেন। তৈরি হবেন, কারণ তাকে যেতে হবে তার মিশন সম্পন্ন হয়েছে। এখন তাকে যেতে হবে পরবর্তী কার্যক্রমগুলো হাতে নেওয়ার জন্য। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে তিনি কিছুদিনের জন্য খন্দকার মোস্তাককে রাষ্ট্রপতি করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উদ্ভট ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। খুনীদের বিচার করা যাবে না-এমন বর্বর আইন সারা পৃথিবীতে হতে পারে না। জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশ জারি হলো, যা ১৯৭৯ সালে আইনে পরিণত করা হয়। এবং সেই আইন দীর্ঘদিন এরশাদ পাল্টাননি, খালেদা জিয়াও পাল্টাননি।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকীতে খালেদা জিয়া কেক কেটে মিথ্যা জন্মদিন পালন করতেন, উল্লাস করতেন। অনেক দিন আমাদের নেত্রী অনুরোধ করেছেন, আমাদের দল থেকে অনুরোধ করা করা হয়েছে, যাতে অন্তত এই কাজটি তিনি করেন না, এই দিনে মিথ্যা জন্মদিন পালন না করেন। আজকে খালেদা জিয়া জেলখানায় আছেন মামলার আসামী হয়ে। সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন না? শাস্তি পেতে হবে না? একেই বলে ন্যাচারাল জাস্টিস। শাস্তি দুনিয়াতে তাকে পেতে হচ্ছে, তার দলকে দেখতে হচ্ছে।

রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন একটানা ক্ষমতায় আছেন। তাতে জ্বলে যাচ্ছে তাদের, যারা দেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখে সহ্য করতে পারছে না। পদ্মা সেতু দুর্বল, গাড়ি উঠলে পড়ে যাবে-এইরকম খালেদা জিয়া নিজেও বলেছিলেন। এখন যখন বিএনপির ভাইয়েরা পদ্মা সেতু দিয়ে যাচ্ছেন, সেই ভয়টি কি মাথায় রেখেই যাচ্ছেন নাকি পদ্মা সেতু দিয়ে যাওয়া বন্ধ করে স্পিড বোর্ডে বা ফেরিতে করে যাচ্ছেন?। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার মতো কথা বিএনপি ছাড়া আর কে বলবে, কে করবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি দুইবার নির্বাচন বর্জন করেছে। এরাই তারা যারা পচাত্তরের সুফলভোগী। তারা কেউ মারা গেছে, কেউ বেঁচে আছে। বিভিন্ন দলে আছে, বিভিন্ন জায়গায় আছে। বিএনপিসহ তারাই এখন বলছেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের দাবি মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে। তা না হলে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’ এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, আপনারা দাবি করতেই পারেন, মিছিল করতে পারেন, মিটিং করতে পারেন-সবই করতে পারেন। কিন্তু জ্বালাও-পোড়ায় করতে গেলে আমরা ছাড় দিব না। আর জ্বালাও-পোড়ায় করতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন প্রতিহত করবেন এই সুযোগ বাংলার মাঠিতে কখন আর আপনারা পাবেন না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থেকেই নির্বাচন হবে।