আককাস আলী : নওগাঁর মান্দার পানিয়াল আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. কায়মুল হক মন্ডলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ১কোটি ৭১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কলেজের দুইজন কর্মচারী নিয়োগে ২৮ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। আর কলেজের অনার্স ও ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অধ্যক্ষ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এক অভিভাবক। এসব অনিয়মের বিষয়ে জানিয়ে উপজেলার সাবাইহাট গ্রামের মৃত তাছের আলী সরদারের ছেলে এবং কলেজের এক ছাত্রের অভিভাবক রেজাউল করিম জেলা প্রসাশক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, গত ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ আগস্ট গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন ছাড়া তৎকালীন সভাপতি কাঞ্চন কুমার প্রামানিককে না জানিয়ে কলেজের কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে দুটি চেকের মাধ্যমে তিন লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত মে মাসে কলেজে কর্মচারী পদে জনৈক সবুর এবং শাহিনকে চাকরি দিয়ে অধ্যক্ষ ২৮ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। যা তারা বিভিন্ন জনের কাছে বেশ কিছু জমি বিক্রয় করে দিয়েছেন। এটাকা সংগ্রহে তারা পার্শ্ববর্তী শিংগা গ্রামের জনৈক এমদাদুল হকের কাছে ৪৭শতক জমি ১৫ লাখ টাকার বিনিমিয়ে বিক্রয় করেছেন। শ্রীরামপুর গ্রামের ইনতাজ আলীর স্ত্রী আছিয়া বিবির কাছে ১৭ শতক জমি ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে এবং মাধায়পুকুর গ্রামের নাদিরা বেগমের কাছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমি বিক্রয় করেছেন। এছাড়া কলেজের ডিগ্রি বা স্নাতক শ্রেণির শিক্ষক-কর্মচারী ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। ২০১৩ থেকে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর অভিভাবকদের জমি বিক্রয়ের বিস্তারিত তথ্য তার কাছে সংরক্ষিত আছে বলে রেজাউল করিম তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। এবিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, এসব টাকা দিয়ে অধ্যক্ষ রাজশাহীতে ৩ কাঠা জমি ক্রয় করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

চলা ফেরার জন্য তিনি ব্যবহার করেন বিলাস বহুল মাইক্রোবাস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আগে ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো। তখন বিষয়টি নিয়ে স্কুলে সভা-সমাবেশে হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মুখ খোলার অভিযোগে একাধিক শিক্ষকের বেতন বন্ধ, শোকজসহ বিভিন্ন অজুহাতে সাময়িক বরখাস্ত করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এ অধ্যক্ষ। সাবেক সভাপতি কাঞ্চন কুমার প্রামানিক বলেন, অধ্যক্ষ মোঃ কায়মুল হক মন্ডল একজন অযোগ্য অর্থলোভী ও দুর্নীতিবাজ। জাল জালিয়াতি করে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নিয়েছেন। তিনি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের জনবল কাঠামো যথাযথভাবে পালন না করে অবৈধভাবে নিজে যোগদান করেছেন। এসব কারণে আমি তাকে একাধিকবার কারণদর্শানোর নোটিশ দিয়েছি এবং একবার তাকে বরখাস্ত করেছিলাম। এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ মোঃ কায়মুল হক মন্ডল বলেন, একটি মহল আমার নামে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এসব কুৎসা ছড়াচ্ছে। আমি কলেজের উন্নয়ন করছি একটি গোষ্ঠী তা মেনে নিতে পারছে না। তিনি বলেন, বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী কোন পদ্ধতিতে এবং কিভাবে নিয়োগ হয় সেটা আপনারা সবাই কমবেশি জানেন। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে কলেজের উন্নয়নে প্রায় সকলেই কিছু ডোনেশন দিয়ে থাকেন। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সেশন ফিসহ যেসব টাকা নেয়া হয় সেগুলো কলেজের উন্নয়নেই ব্যয় করা হয়। নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।