তানোর প্রতিনিধি : জন্মের পর থেকে এক হাতের সবগুলো আঙ্গুল নেই শিমার। প্রতিবন্ধী ভাতার একটি কার্ডের জন্য বছরের পর বছর সমাজসেবা অফিস ও ইউপির চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিয়েও ২৫ বছরেও তার কপালে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। সিমা না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে কার্ড পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিমার বাড়ি উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির চাঁদপুর গ্রামে। সে চাঁদপুর গ্রামের দিনমজুর সেন্টুর স্ত্রী। তাদের সংসারে রয়েছে দুটি সন্তান। রাস্তার ধারে একটি বড় আম গাছের নিচে কুঁড়ে ঘরে স্বামী-সন্তান ও গরু-ছাগল নিয়ে একই ঘরে তার বসবাস ও মানবেতর জীবনযাপন। তার পরেও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের চোখে পড়েনি। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে শতভাগ প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতা প্রবর্তনের চেষ্টা করছেন। সেখানে শিমার মত একজন অসহায় দরিদ্র প্রতিবন্ধী নারী এই সুবিধার বাইরে থাকা অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জাজনক। জন্মের পর থেকে জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ঘুরে ঘুরে আজ সে ক্লান্ত। তবে কার্ড না পেলেও সমাজসেবা কার্যালয়ের আরিফ নামের এক কর্মী দফায় দফায় তার কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।

 

এবিষয়ে সিমা বেগম বলেন জন্মের পর থেকে তাঁর একটি হাতের কোন আঙুল নেই, একটি প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও ইউপি মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে ধর্ণা ধরেও তাঁরা আমাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেয়নি। সমাজসেবা অফিসে গেলে বলে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে। আর চেয়ারম্যানের কাছে গেলে বলে এটা পরিষদের কাজ না, এটা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কাজ, আপনি সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করেন বলে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি বলেন, তিনি একজন অসহায় মহিলা এভাবে একবার উপজেলা সমাজসেবা অফিস যাবো, না ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে যাবো। বাড়ি থেকে উপজেলা যেতে লাগে ৩০টাকা, আসতে লাগে ৩০টাকা। যদি এভাবে প্রায় দিন প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য উপজেলা যেতে হয় তাহলে আমরা গরীব মানুষ ভাড়ার টাকা যোগাবো ,না সংসার চালাবো।

 

তাঁর পরেও সমাজসেবা অফিসের বারান্দায় ১০-১২ দিন ঘুরেও আমার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হয়নি। তানোর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, তাঁর কাছে ওই প্রতিবন্ধী মহিলা কখনো আসেনি, তাঁর মত মহিলা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড না পেলে কে পাবে প্রতিবন্ধীর কার্ড। তিনি বলেন, শিমা আমার অফিসে যোগাযোগ করলে আমি দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে শিমার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দিবো, যাঁরা প্রকৃত অর্থে প্রতিবন্ধী তাঁরা কেউ ভাতা আওতার বাহিরে থাকবে না। এবিষয়ে পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়ার দায়িত্ব উপজেলা সমাজসেবা অফিসের,এখানে ইউপি পরিষদের কোন কিছু করার নাই বলে ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।