হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। এই ভাইরাস দূষিত পানি ও খাবারসহ অন্যান্য মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। যা প্রাথমিক অবস্থায় কোন উপসর্গ প্রকাশ না করলেও ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পেটে পানি জমা, রক্ত পায়খানা ও রক্তবমি হওয়ার মতো বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তবে এই রোগে যারা আক্রান্ত হয় তাদের ১০ জনের ৯ জনই এর কারণ জানেন না। তাই দেরি না করে এখনই পরীক্ষা করুন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এক শোভাযাত্রা শেষে এক জনসচেতনতামূলক সভায় এসব তথ্য জানান চিকিৎসকেরা। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করে হাসপাতালটির হেপাটোলজি বিভাগ। -এফএনএস

 

শোভাযাত্রায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানান, হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ মূলত দূষিত খাবার এবং পানির মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’ মূলত যৌনবাহিত রোগ। তবে গর্ভাবস্থা বা প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর কাছেও যেতে পারে এবং রক্তের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। হেপাটাইটিস ‘সি’ সাধারণত সংক্রামিত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগ হলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। চিকিৎসকেরা আরও জানান, হেপাটাইটিসের পাঁচটি ভাইরাস রয়েছে। এ, বি, সি, ডি এবং ই। এর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় ও লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে ও লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শোভাযাত্রায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফজুলল কবীর, সহকারী পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হুদা খানসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।