আলিফ হোসেন, তানোর : রাজশাহীর তানোরে একশ্রেণীর বালাইনাশক ব্যবসায়ী বালাইনাশকের লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে ও বেশী দামে বিভিন্ন প্রকারের সার বিক্রি করছেন বলে অভিয়োগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, এসব ব্যবসায়ীরা ক্রয় রশিদ ছাড়াই বিভিন্ন কৌশলে চোরাপথে মান্দার চৌবাড়িয়া, সাবাইহাট, দেলুয়াবাড়ী, মোহনপুরের কেশরহাট ও ধুরইল বাজার প্রভৃতি এলাকা থেকে রাঁতের আঁধারে নিম্নমাণের সার এনে মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ কৃষকেরা বিপাকে পড়েছে, আবার রশিদবিহীন এসব সার আসল নকল, ভেজাল না নিম্নমাণের সেটি নিয়েও কৃষকের চরম সঙ্কার মধ্যে রয়েছে। কারণ এসব সার ব্যবহার করে কৃষকেরা যদি কাঙ্খিত ফল না পায় তাহলে রশিদ না থাকায় তারা কাউকে দায়ী করতে পারবে না। কৃষকেরা জানান, গত বছর তালন্দ বাজারের লাবনী ট্রেডার্স থেকে বেশী পটাশ এবং ডিএপি সার কিনে তারা প্রতারিত হয়েছেন, কিন্ত্ত রশিদ না দেয়ায় তিনি পরে সার বিক্রির কথা অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, এবারেও উপজেলায় যখন পটাশ ও টিএসপি সারের সংকট তখানো তার দোকানে দাম বেশী দিলে এসব সার পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলারগণ যখন সার পাচ্ছে না, তখন এসব খুচরা কীটনাশক ব্যবসায়ীরা কোথায় সার পাচ্ছেন।

 

স্থানীয় অসমর্থিত সুত্র জানায়, তানোরের প্রাণপুর মোড়ে মেসার্স বৃষ্টি টেড্রার্স, তালন্দ বাজারের চৌধুরী টেড্রার্স, কাজল ও লাবনী টৈড্রার্স এবং আজিজপুর মোড়ের, সাফিউল টেড্রার্স অবৈধভাবে সার মজুদ করে রশিদ ছাড়াই বেশীদামে বিক্রি করছে। এদের গুদাম ও বাড়িতে অভিযান করা হলে অবৈধভাবে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ পাওয়া যাবে। এছাড়াও কলমা ইউপির বহাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের পুত্র এনায়েতউল্লাহ্ বাড়িতে মেসার্স ফাহিম টেড্রার্স নামে বালাইনাশকের লাইসেন্স নিয়ে অতিরিক্ত দামে কালোবজারে সার বিক্রি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, ৮০০ টাকা বস্তা মূল্যের ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) ও ইউরিয়া সার ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ১১০০ টাকার ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি সার বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা এবং ৭৫০ টাকার এমওপি ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা বস্তা দরে বিক্রি হচ্ছে, তবে কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না। বালাইনাশকের লাইসেন্স নিয়ে এভাবে সার বিক্রি করতে পারেন কি না জানতে চাইলে, মেসার্স ফাহিম টেড্রার্সের স্বত্ত্বাধিকারী এনায়েতউল্লাহ বলেন, অবশ্যই বিক্রি করতে পারি, তবে দাম বেশী নেয়ার বিষয়ে বলেন, বেশী দামে বাইরে থেকে সার নিয়ে এসে তো কম দামে বিক্রি করতে পারি না। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ বলেন, সুনিদ্রিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।