সদ্য জাতীয়করণ করা কলেজে অ্যাডহক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন বেসরকারি আমলে কর্মরত গ্রন্থাগার প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষকদের (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) নিজ পদে নিজ গ্রেডে যথাক্রমে নবম ও দশম গ্রেডে আত্তীকরণ করতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই দাবী বাস্তবায়ন করা না হলে আমরণ অনশনসহ নানা কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কলেজ গ্রন্থাগার পেশাজীবী পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বাংলাদেশ সরকারি কলেজ গ্রন্থাগার পেশাজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কলেজ গ্রন্থাগার পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি আবুল কালাম মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, আমরা সদ্য জাতীয়করণ করা কলেজে বেসরকারি আমলে (এমপিওভুক্ত) গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকরা যথাক্রমে নবম ও দশম গ্রেডে যোগদান করে অনেকে টাইমস্কেল পেয়ে নবম, সপ্তম এবং ষষ্ঠ গ্রেডে কাজ করছি। -এফএনএস

 

গত বছর পদ দুটির নাম পরিবর্তন করে গ্রন্থাগার প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান) হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। বর্তমানে এমপিও সিটে শিক্ষক হিসাবে ও নির্ধারিত বেতন গ্রেড বিদ্যমান রয়েছে। জাতীয়করণ করা কলেজে আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী বেসরকারি আমলে (এমপিও ভুক্ত) কাজ করা সব শিক্ষক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিজ পদে নিজ গ্রেডে পদ তৈরি করে অ্যাডহক নিয়োগ করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুধু গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদ দুটির ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকার পরও গ্রেড অবনমন করে গ্রন্থাগারিক নবম গ্রেডের পরিবর্তে দশম গ্রেড এবং সহকারী গ্রন্থাগারিকদের দশম গ্রেডের পরিবর্তে ১৪তম গ্রেড দেওয়া হচ্ছে। যা বেসরকারি আমলে যোগদান করা পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যার ফলে সরকারি হলেও বেতন ভাতাদি বেসরকারি আমলে প্রাপ্ত বেতনের অর্ধেকে নেমে এসেছে।

 

বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নেই। তিনি আরও বলেন, গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকরা ১০ থেকে ৩০ বছর চাকরি করার পরও আমাদের পদসৃজন করে যোগদান করা গ্রেডও বহাল রাখা হচ্ছে না। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও অর্থ মন্ত্রণালয় কোন বিধি ছাড়া আত্তীকরণে আমাদের উপর অবিচার করছে। এতে আমরা চরমভাবে আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। জাতীয়করণ করা কলেজগুলোর গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ করা ও সম্মতি দেওয়া নবম গ্রেড ও দশম গ্রেডের ব্যাপারে অসম্মতি জানানোর কারণে আমরা গ্রন্থাগার পেশাজীবীরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। বাংলাদেশ সরকারি কলেজ গ্রন্থাগার পেশাজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে এ সময় পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।